বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
বিবিধ

সাঙ্গু নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্যে দিয়ে শুরু বিজু উৎসব

bandarban_20260412_085409219

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুলনিবেদনের মধ্যে চাকমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু’ ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ‘বিষু’ শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সাঙ্গু নদীর তীরে এ আয়োজনে অংশ নেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ।

ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দলবেঁধে ফুল হাতে নিয়ে সাঙ্গু নদীর তীরে জড়ো হন। পরে তারা মোমবাতি প্রজ্বলন ও ফুল নিবেদন করেন জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে। এসময় অতীতের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং আগামী বছর পরিবারসহ সকলের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। চাকমাদের কাছে বিজু, মারমা ও চাক সম্প্রদায়ের কাছে সাংগ্রাইং, ত্রিপুরাদের কাছে বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিষু, ম্রোদের কাছে চাংক্রান, খেয়াংদের কাছে সাংলান ও সাঁওতালদের কাছে বাহা উৎসব হিসেবে পরিচিত হলেও উৎসবের আনন্দ সবার জন্য এক ও অভিন্ন। দীর্ঘকাল ধরে পালিত হয়ে আসা এ উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নদীতে ফুল নিবেদন করতে আসা অর্নি চাকমা বলেন, অতীতের সকল দুঃখ, গ্লানি মুছে গিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

লজ্জাবতী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, অতীতের দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি সব যেন ধুয়ে মুছে যায়। সকল দুঃখগুলো নদীর স্রোতের সঙ্গে বিলীন হয়ে গিয়ে সামনের দিনগুলো যেন সুখ শান্তি, উন্নতি হয়। সকলের কল্যাণ কামনা করে জলবুদ্ধকে ফুলদিয়ে পূজা করে বিষু উৎসব শুরু করা হয়।

চাকমা সম্প্রদায়ফুল নিবেদনবিজু উৎসবসাঙ্গু নদী