বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

শুধু পানি নয়, সঠিক হাইড্রেশনই সুস্থতার চাবিকাঠি

bangla_2025-03-12_ijx3xzjs_image1-2-1635672785048 (1)

অনেকে মনে করেন, বেশি করে পানি খেলেই শরীর ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। শরীরের জন্য শুধু পানির পরিমাণ নয়, বরং সেই পানি কতটা কার্যকরভাবে শোষিত ও ব্যবহার হচ্ছে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাইড্রেশন শুধু পানির ওপর নির্ভর করে না।চিকিৎসকদের মতে, শরীর কোনো স্টোরেজ ট্যাংক নয়; এটি একটি গতিশীল ব্যবস্থা। শরীরের কোষে পানি পৌঁছাতে এবং ধরে রাখতে প্রয়োজন ইলেকট্রোলাইট, বিশেষ করে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম।যদি খাদ্য তালিকায় এসব খনিজ লবণের ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রচুর পানি পান করলেও শরীর তা ধরে রাখতে পারে না, ফলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

একসঙ্গে বেশি পানি খাওয়াও ক্ষতিকর। অনেকেই দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে একসঙ্গে অনেক পানি পান করেন। এতে সাময়িক তৃপ্তি মিললেও শরীর তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে বেশি পানি খেলে কিডনি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং বাড়তি পানি দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যায়। সুষম খাদ্য হাইড্রেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলা, কমলা, শাকসবজি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবারে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

World Health Organization (WHO)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল ও সবজি কম খেলে কার্যকর হাইড্রেশন ব্যাহত হয়। এছাড়া কিছু পানীয়ও পানি শূন্যতা বাড়ায়। সব পানীয় সমান নয়। ক্যাফেইন ও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় মৃদু মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে কফি বা সোডা বেশি পরিমাণে পান করলে শরীর থেকে তরল দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে। তবে মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে এসব পানীয় গ্রহণে সমস্যা নেই। সমস্যা হয় যখন এগুলো পানির বিকল্প হয়ে ওঠে।উপরন্তু, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা, কম শারীরিক চলাফেরা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করে।এছাড়া অবসাদও শরীরের হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে, যা হাইড্রেশনের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপাসা লাগা মানেই শরীর ইতোমধ্যে পানি হারাতে শুরু করেছে। তাই নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করাই সঠিক পদ্ধতি।

পানিশূন্যতার লক্ষণ হিসেবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।তাই সারা দিনে অল্প অল্প করে পানি পান করুন।খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজি বাড়ান। ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল সীমিত রাখুন। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন।
শেষ কথা, হাইড্রেশন মানে শুধু পানি পান নয়; এটি সুষম খাদ্য, সঠিক অভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপনের সমন্বয়। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে পানির পাশাপাশি খাবার ও জীবনধারার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

Advertisements