বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

দেশে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব, প্রতিকারে করণীয় কী?

measles-hospital-270326-04-1774640617

কয়েকদিন ধরে সংবাদ আসছে রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম ছড়িয়ে পড়ছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তত্ত্বাবধানে বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল ও চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তবে শুধু রাজশাহীতে নয়, দেশের কমপক্ষে সাত জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চলতি মাসেই হামে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এসব তথ্য উদ্বেগ তৈরি করলেও অনেক অভিভাবকই এই অসুখটি নিয়ে যথেষ্ট সচেতন না, অনেকে আবার জানেন না এটি কীভাবে ছড়ায় ও কীভাবে শিশুকে নিরাপদ রাখতে হবে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামকে অনেকেই সাধারণ জ্বর-সর্দি ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু এটি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে – বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

হাম হঠাৎ কেন বাড়ছে?

হাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি। অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপুষ্টির কারণেও ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটে। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার ফলে একটি বড় জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মুখে থাকে, যা প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।

হামের টিকা কেন জরুরি?
হাম কেবল সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি নয়; এটি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ (যা থেকে বধিরতা হতে পারে) এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে হাম থেকে। সঠিক সময়ে টিকা নিলে এসব প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ইপিআই ছাড়া টিকা দেওয়া যায় কি?
সরকারি ইপিআই কর্মসূচির বাইরেও বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত বেসরকারি পর্যায়ে এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হামের পাশাপাশি মাম্পস ও রুবেলা থেকেও সুরক্ষা দেয়।

টিকার ডোজ ও নিয়ম
শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। যারা শৈশবে টিকা নেয়নি, তারা অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে পারে।

বড়দের দেওয়ার সুযোগ ও নিয়ম
হ্যাঁ, বড়দেরও হামের টিকা দেওয়ার সুযোগ আছে। বিশেষ করে যারা প্রজননক্ষম নারী বা যারা শৈশবে টিকা নেননি, তাদের জন্য এটি জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, গর্ভাবস্থায় হামের টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। টিকা নেওয়ার অন্তত এক মাস পর গর্ভধারণের পরিকল্পনা করা উচিত।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হামের টিকা অত্যন্ত নিরাপদ। তবে ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ব্যথা, হালকা জ্বর বা শরীরে সামান্য লালচে ভাব হতে পারে, যা দুই-তিন দিনের মধ্যে আপনা–আপনি সেরে যায়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল।
হাম প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আপনার শিশুকে সময়মতো টিকা দিন এবং নিজে সুরক্ষিত থাকুন।

প্রাদুর্ভাবসংক্রামক রোগহাম