বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ইবোলা সংক্রমণে রেড অ্যালার্ট: বিশ্ব কি ফের মহামারির মুখে?

IMG_1487_original_1778857656

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তে আবারও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি আরো বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গতকাল শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত ডিআরসির ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে-বুনিয়া, রওয়ামপারা ও মঙ্গবালুতে ৮০ জনের সন্দেহজনক মৃত্যু, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া আটটি সংক্রমণ ও ২৪৬টি সন্দেহভাজন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আফ্রিকা সিডিসি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে ‘কমিউনিটিতে সক্রিয় সংক্রমণ’ চলছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যাপক স্ক্রিনিং ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ জোরদার করেছেন। ডব্লিউএইচও বলেছে, বুনদিবুগিও ধরনের ভাইরাসের কারণে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা আতঙ্ক ও প্রতিদিনের দাফনের চিত্র তুলে ধরেন।

১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হয় ইবোলা

১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয়েছিল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তেই। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। ইবোলা সাধারণত শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শ বা ক্ষতস্থানের মাধ্যমে ছড়ায়। এতে তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যেসব উপসর্গে সতর্ক হতে হবে

ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে-

>জ্বর

>পেশিতে ব্যথা

>দুর্বলতা

>মাথাব্যথা

>গলাব্যথা

পরবর্তী সময়ে রোগীর মধ্যে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র‍্যাশ এবং রক্তক্ষরণের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব হয়েছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। সে সময় প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। সবশেষ গত বছর মধ্যাঞ্চলের কাসাই প্রদেশের বুলাপে এলাকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মারা যান ৪৫ জন।

বর্তমানে ইবোলার নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, এ রোগে গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।

আফ্রিকাইবোলাবিশ্বমহামারিরেড অ্যালার্ট