১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
বিনোদন

কারিনার স্মৃতি ঘিরেই কাটছে বাবার প্রতিটি দিন

karina

সদ্য প্রয়াত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে হারানোর শোক এখনো বাবাকে তাড়া করে ফিরছে। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা কায়সার হামিদের জ্যেষ্ঠ কন্যা এ পৃথিবীতে আর নেই এ কথা মানতেই পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, বড় মেয়েটা এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে বুঝতে পারিনি। প্রতিদিন যেন বুকের ওপর একটা পাথর নিয়ে বেঁচে আছি।

কারিনার জীবন থেমে গেছে জন্মদিনের আগেই। আগামী ১১ নভেম্বর তার ৩৩ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও লিভারজনিত জটিলতায় অকালেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। গত সোমবার মুন্সিগঞ্জে নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তবুও পরিবারের কাছে এখনো এই শোক মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে আছে, যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে কারিনা আর ফিরবে না।

মেয়ের স্মৃতি মনে করে তার বাবা কায়সার হামিদ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী কারিনা বাবার কোলে। বনানী ডিওএইচএসের বাসায় তোলা সেই ছবিটি তুলে দিয়েছিলেন কারিনার মা লোপা কায়সার। ছবিটির দিকে তাকিয়ে যেন তিন দশকেরও বেশি সময় আগের স্মৃতিতে ফিরে যান তিনি।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর জন্ম হয়েছিল তার মেয়ের। এ বছরের নভেম্বরে ৩৩ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল কারিনার, কিন্তু তার আগেই থেমে গেল একটি সম্ভাবনাময় জীবনের পথচলা।

একজন সন্তানহারা বাবার অসহায়ত্ব বারবার তার কথার মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ফুটে উঠছে। ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে কন্যার উদ্দেশে আবেগময় কয়েকটি লাইনও লিখেছেন কায়সার হামিদ, ‘কারিনা, দিন যাবে, বছর যাবে। একসময় সবাই তোমাকে ভুলে যেতে পারে। কিন্তু তোমার বাবার বুকে তুমি চিরদিন থাকবে। আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’

শোকাহত মা লোপা কায়সারও সামাজিকমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনো কারও কাছে কিছু চাইনি, কারও অপকার করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।’

Advertisements

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা কায়সার। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই জনিত জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত তার লিভার ফেইলিউর হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬ ২৪ ৩৬’, যা দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছিল।

Advertisements