‘বাঘ বিধবা’ ভাতা চালুর দাবি এমপি গাজী নজরুলের

সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ‘বাঘ বিধবা’ নামে পরিচিত এসব নারীর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মাছ, গোলপাতা, মধু বা কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে সুন্দরবনে বাঘের থাবায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের অবর্তমানে তাদের স্ত্রীরা জীবনযুদ্ধে দিশেহারা। এর ওপর আবার এসব নারীর সঙ্গে ‘অপয়া’ অপবাদ যোগ হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাদের নতুন পরিচিতি ‘বাঘ বিধবা।’ খুলনা, সাতক্ষীরাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন জেলার গ্রামগুলোয় এমন অনেক দুর্ভাগা নারী রয়েছেন। বাঘের পেটে স্বামীদের যাওয়ার পেছনে যেন তারাই দায়ী-এমন ধারণার কারণে গ্রামের অন্যরাও তাদের সঙ্গে সেভাবে মেলামেশা করেন না। অনেকটা সমাজচ্যুত জীবনযাপন করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
কয়রার আম্বিয়া খাতুন বলেন, ২৪ বছর আগে স্বামী আমজাদ হোসেন সরদার সুন্দরবনে মাছ শিকারে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান। এরপরই তিন মেয়েকে নিয়ে তার জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। এলাকার অন্যদের সরকারি বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হলেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। বাঘ বিধবাদের জন্য সরকারের আলাদাভাবে ভাবা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে তিনি দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রশ্নোত্তর পর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।
গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা উপকূলীয় হওয়ায় অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে নিয়মিত সুন্দরবনে যান। মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা কিংবা কাঠ সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এসব কাজে জঙ্গলে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রায়ই বাঘের আক্রমণের শিকার হতে হয় অনেককে। এতে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে তার স্ত্রী ও সন্তানরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সংসদ সদস্য আরও জানান, অতীতে এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ দায়িত্বে থাকার সময় বাঘের আক্রমণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। ওই পরিকল্পনার আওতায় বাঘ বিধবাদের জন্য ভাতা চালু এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের কথাও ভাবা হয়েছিল। সেই সময় প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি কেন্দ্র স্থাপন করে বিধবা নারীদের সন্তানদের শিক্ষা এবং পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নানা কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি এবং বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি।
তিনি আরও মনে করেন, সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ পেশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক ও সামাজিকভাবে কিছুটা নিরাপত্তা পাবে।



