নারীর ক্ষমতায়নে নতুন সামাজিক কাঠামোর আহ্বান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘নারী আন্দোলন অগ্রসরমানতার অন্বেষায় সংলাপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) বিকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংগঠন উপপরিষদ সদস্য আফরা আনতারা এবং উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত জাইমা। কবিতা আবৃত্তি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসাইবা আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা।
এতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন জান্নাতুল ফেরদৌস আইভী, আইনজীবী তাসনিয়া তাহসিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা, স্থপতি ও আন্তর্জাতিক উপপরিষদ সদস্য শায়কা শান্তা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা দাশ পুরঃকায়স্থ, সদস্য সুপা সাদিয়া, শিক্ষার্থী সামির, রাকিব সরদার, নুসাইবা আহমেদ এবং গণমাধ্যমকর্মী শামীমা আখতার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিজেদেরই তৈরি করতে হবে। নারীবাদকে শুধু ‘ট্যাগিং’ হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তব জীবনে অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীকে নিজের পেশাগত অবস্থান ও পরিবারে সচেতন থেকে প্রতিনিয়ত আসা বাধা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে সীমা মোসলেম বলেছেন, ‘নারী আন্দোলন মূলত সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন। সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারী আন্দোলনের ধারাও বদলায়।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অবদান দৃশ্যমান হলেও কাঠামোগত নানা চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে এবং অর্জিত অধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন নির্মাণধর্মী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, ‘যতদিন পৃথিবী থাকবে, মানবসভ্যতা থাকবে, ততদিন অধিকারের প্রশ্ন থাকবে। নারী আন্দোলনের লড়াই একমুখী নয়; আমাদের উপলব্ধি করতে হবে কতটুকু অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করতে পারছি।’
‘নারীবান্ধব নতুন সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো গড়ে তুলতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। নাগরিক ও মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নতুন ও পুরনো প্রজন্মের চিন্তার দূরত্ব কমিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।



