বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

চাহিদায় এখন ভাঙা-ফাটা ডিম

Ruined-Damaged-Eggs

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ভাঙা ডিমের চাহিদা বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিমসহ সব ধরনের ডিমের দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ এখন দোকানে দোকানে ভাঙা ডিম খুঁজছেন। এ সুযোগে ভাঙা ডিমের দামও বেড়েছে আগের তুলনায়। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা সদরের ধানগড়া বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ধানগড়া বাজারের পুরোনো চৌরাস্তায় সেন্টার পয়েন্টের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ডিম বিক্রি করেন মো. রঞ্জু সরকার। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ছিল ৩৬–৩৮ টাকা। দাম বাড়তে বাড়তে এখন প্রতি হালি ৪৮–৫০ টাকা। দাম বাড়ায় ডিমের বিক্রি কমে গেছে। আগে দিনে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিক্রি হতো, বর্তমানে তা কমে দুই হাজারে নেমেছে।

রঞ্জু সরকার আরও জানান, হঠাৎ ভাঙা ডিমের চাহিদা বেড়েছে। আগে সারা দিন বেচাকেনা শেষে ভাঙা ডিম বাড়িতে নিয়ে যেতেন, তখন খুব অল্প কিছু ক্রেতা কম দামে এসব ডিম কিনতেন। তবে কয়েক দিন ধরে অনেকেই এসে ভাঙা ডিম খুঁজছেন এবং না পেলে পরে রেখে দেওয়ার অনুরোধ করছেন। আগে প্রতিটি ভাঙা ডিম পাঁচ–ছয় টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা আট টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভাঙা ডিম কিনতে আসা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি পরিচয় প্রকাশ না করে বলেন, ‘ডিমের দাম বেশি হওয়ায় ভাঙা ডিম কিনছি। এতে খানিকটা সাশ্রয় হচ্ছে।’ একই ধরনের কথা বলেন এক মধ্যবয়সী নারী ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমার একজন মেয়ে স্কুলে পড়ে। ভাতের সঙ্গে ডিম ভাজা হলে মেয়ের অন্য কিছু লাগে না। ভালো ডিমের দাম বেশি, তাই ভাঙা ডিম কিনছি।’

ধানগড়া বাজারের তিনজন ডিম ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত পরিবহনের সময় কিছু ডিম ভেঙে যায়। এসব ভাঙা ডিম আলাদা করে রাখা হয়। আগে এসব ডিমের তেমন চাহিদা ছিল না। বিক্রেতারা দিনের শেষে সেগুলো নিজেরা নিয়ে যেতেন। তবে এখন সব ধরনের ডিমের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের কাছে ভাঙা ডিমের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে বিক্রেতারাও ভাঙা ডিমের দাম কিছুটা বাড়িয়েছেন।

ভাঙা ডিম কিনতে আসা এক দিনমজুর বলেন, আগে কখনো ভাঙা ডিম কিনতে হয়নি। আগে যে দামে ভালো ডিম কিনতেন, এখন সেই দামেই ভাঙা ডিম কিনছেন। ডিম ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরাও বুঝতে পারছি না, হঠাৎ এভাবে ডিমের দাম বাড়ল কেন। দাম বাড়ায় ডিম বিক্রি অনেক কমে গেছে। অনেকেই আবার এসে ভাঙা ডিমের খোঁজ করছেন।’

জানা গেছে, ধানগড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম ৪৮–৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০–৬৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম ৬০–৬৫ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে ফার্মের মুরগির ডিমের বিক্রি বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষক সেলিম রেজা খোন্দকার বলেন, সাধারণ মানুষের পুষ্টির বড় অংশ আসে মুরগির ডিম থেকে। সেটির দামও এখন অনেক। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

চাহিদাডিমভাঙা-ফাটাসিরাজগঞ্জ