৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

জনসংখ্যা ‘বিপর্যয়ে’ ইউক্রেন, অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়?

85534ece4495d0c4806d27c27845c6f4-699c67963ff28

ইউক্রেন-রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের প্রভাবে ইউক্রেন এখন এক ভয়াবহ ‘জনসংখ্যাগত বিপর্যয়ের’ মুখে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ, অন্যদিকে দেশটিতে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে শূন্যের কোঠায় নামছে। অবিরত রুশ হামলায় বাবা-মা হারাচ্ছেন শিশুরা, স্বামী হারাচ্ছেন ইউক্রেনের নারীরা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইউক্রেন এখন ক্রমে ‘বিধবা ও এতিমদের দেশে’ পরিণত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় ইউক্রেনীয় ডেমোগ্রাফার এলা লিবানোভা সিএনএনকে বলেন, “এটি একটি মহা বিপর্যয়। মানুষ ছাড়া কোনও দেশ টিকে থাকতে পারে না।” তার মতে, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি মানুষকে হারিয়েছে ইউক্রেন। এদের মধ্যে অনেকে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, নয়তো দেশ ছেড়েছেন অথবা রুশ অধিকৃত অঞ্চলে বসবাস করছেন। যুদ্ধের কারণে অসংখ্য দম্পতি সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ওলেনা বিলোজারস্কার মতো অনেক নারী যুদ্ধের ময়দানে লড়তে গিয়ে হারিয়েছেন মা হওয়ার স্বাভাবিক সক্ষমতা। ওলেনা জানান, যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করে লড়াইয়ে যোগ দেন। ৪১ বছর বয়সে সেনাবাহিনী ছাড়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার মা হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ।

যুদ্ধের কারণে এমন সিদ্ধান্ত বহু নারীর জীবনে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ইউক্রেনের জন্মহার কার্যত ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ দেশটির জনসংখ্যা থেকে হারিয়ে গেছে। এদের কেউ নিহত হয়েছেন, কেউ দেশ ত্যাগ করেছেন, কেউ আবার রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস করছেন। যদিও যুদ্ধের আগেও ইউক্রেনে জন্মহার কম ছিল, তবে সংঘাতের পর তা নজিরবিহীনভাবে নেমে গেছে। ইউক্রেনের প্রজনন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের চাপের কারণে নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননক্ষমতা কমছে।

কিয়েভের ‘নাদিয়া’ (যার অর্থ আশা) ক্লিনিকের পরিচালক ড. ভ্যালেরি জুকিন জানান, যুদ্ধের মানসিক চাপ ও পরিবেশের কারণে প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি গর্ভপাত এবং ভ্রূণের জিনগত অস্বাভাবিকতা দেখতে পাচ্ছি।” এমনকি ফ্রন্টলাইন থেকে ফেরা পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমানও আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে।

এর মাঝেও ওলেনা বিলোজারস্কার মতো কিছু গল্প আশার আলো দেখায়। ৪৬ বছর বয়সে ক্লিনিকে হিমায়িত ভ্রূণ থেকে ওলেনা জন্ম দিয়েছেন তার সন্তান পাভলুস-এর। তার ডাকনাম রাখা হয়েছে ‘বোহদান’, যার অর্থ ‘ঈশ্বরের উপহার’। ওলেনা মনে করেন, এই শিশুরাই ইউক্রেনের টিকে থাকার শেষ ভরসা।

এছাড়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়েছে ১০৪ বাংলাদেশি, তাদের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। “আমাকে কৌশলে যুদ্ধে জড়ানো হয়’: ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশি পুরুষদের জোরপূর্বক পাঠানো ও মানবপাচারের ঝুঁকি” শীর্ষক ৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে প্রতারণা, বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পুরুষদের কীভাবে ইউক্রেনে সম্মুখসমরে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে সেসব তুলে ধরা হয়েছে।

Advertisements

বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের রক্ষা করতে ও সংশ্লিষ্ট মানবপাচার চক্র ভেঙে দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে । বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগী একজন বলেছেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোরর সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানো হয় যে, তাকে “ক্রয়” করা হয়েছে যুদ্ধ করার জন্য। আরো কিছু ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, কোনও উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। স্থলমাইন ও ড্রোন আক্রমণে কেউ কেউ আহত হয়েছেন। কিছু ভুক্তভোগী কমান্ডারদের মারধরের শিকার হয়েছেন। এমনকি পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো।

Advertisements