৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

পুরুষদের তুলনায় সংসারের ‘মানসিক চাপ’ নারীদের বেশি সামলাতে হচ্ছে, কিন্তু কেন?

পুরুষদের তুলনায় সংসারের ‘মানসিক চাপ’ নারীদের বেশি সামলাতে হচ্ছে, কিন্তু কেন?

ঘর ও সংসার সামলানোর জন্য পরিকল্পনা করা, নানা বিষয় মনে রাখা এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক দায়িত্ব, যা ‘মানসিক বোঝা’ (মেন্টাল লোড) নামে পরিচিত, তার সিংহভাগই বহন করছেন নারীরা। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গবেষণা ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এই পারিবারিক ও মানসিক চাপে বেশি জর্জরিত হচ্ছেন।

তিন সন্তানের মা ৩৭ বছর বয়সী স্টেসি ম্যাথিউস তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমার মাথা সব সময় নানা চিন্তায় ভরা থাকে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও মনে মনে কাজের তালিকা তৈরি করি।

বাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হাজার অভিভাবকের ওপর চালানো যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিছানার চাদর ধোয়া থেকে শুরু করে ফ্রিজের খাবার খেয়াল রাখার মতো ৭১ শতাংশ মানসিক শ্রমের কাজ একাই সামলান মায়েরা। অন্যদিকে বাবারা কেবল গাড়ি সার্ভিসিংয়ের মতো অনিয়মিত বা নির্দিষ্ট কিছু কাজের দায়িত্ব নেন।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিয়া রুপানার মানসিক বোঝাকে অদৃশ্য, স্থায়ী ও সীমানাহীন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, আপনি আপনার ব্যবহারের থালাবাসন অফিসে নিয়ে যান না, কিন্তু এই মানসিক চাপ সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন।

মনোবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান জন্মের পর প্রসূতি ছুটি বেশি পাওয়ার কারণে মায়েরা শুরুতেই ‘মূল অভিভাবক’ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে কাজে ফিরলেও সংসারের সব তথ্যের জন্য সবাই তার ওপরই নির্ভর করে। লন্ডনের উপ-প্রধান শিক্ষক ও দুই সন্তানের বাবা স্যাম বেরি জানান, শুরুতে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তবে পরে বুঝতে পারেন যে, কেবল রাতের খাবার রান্না করাই কাজ নয়; ফ্রিজে কী আছে দেখা, বাজার করা এবং খাবারের পরিকল্পনা করাই হলো আসল মানসিক কাজ।

প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞ অনিতা ক্লিয়ার সতর্ক করে বলেন, মানসিক চাপের কারণে নারীরা ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়ছেন বা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, যদি এই মানসিক চাপ কমানো যায়, তবে কর্মক্ষেত্রে নারীদের কাজের দক্ষতা ও শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সংসারের এই অদৃশ্য মানসিক চাপ কমাতে এবং দম্পতিদের মধ্যে ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু কার্যকর উপায় দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাগ বা ক্ষোভের মাথায় কথা না বলে শান্ত পরিবেশে নিজের মানসিক চাপের কথা সঙ্গীকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে। কোনও একটি নির্দিষ্ট বিভাগের সব দায়িত্ব; যেমন স্কুলের প্রশাসনিক কাজ বা ঘরের বাজার করার পুরো তদারকি, একজনের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চর্চা তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া যৌথ ব্যবহারের জন্য একটি পঞ্জিকা রাখা যেতে পারে, যাতে পরিবারের সবাই প্রয়োজনীয় তারিখ ও কাজের কথা জানতে পারে। দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী কাজগুলো জীবন থেকে ছাঁটাই করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

সূত্র: বিবিসি

Advertisements