বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

নীতিমালা চূড়ান্ত: ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না যারা

Cash-in-Family-Card-1200×630

সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত উপজেলাগুলোতে কার্ড বিতরণ করা হবে। ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।” ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা সব নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত নয়। সমাজের প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা ২০২৬’ চূড়ান্ত করেছে। ভূমিহীন ব্যক্তি বা পরিবার, গৃহহীন মানুষ যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই, প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন পরিবার, হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যগণ, বেদে বা যাযাবর গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার , স্বল্প জমির মালিক যাদের জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম- এ সকল পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী- পরিবারে কোনও সরকারি পেনশনভোগী সদস্য থাকলে, বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী হলে, নিজস্ব গাড়ি বা কোনও বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে, ব্যবসার বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে, বড় কোনও ব্যবসা বা আয়ের উৎস থাকলে পরিবারগুলো এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা ছিল দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে কার্ড বিতরণের নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ নীতিমালাটি তৈরি করেছে।

সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসাবে স্থানান্তরিত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলোও পাওয়া যাবে। এই পাইলটিং কার্যক্রম সফল হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের বাকি এলাকাগুলোতেও ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ এবং অনগ্রসরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কার্ডের সুবিধাভোগী নারী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া হিসাবে সরকারের খানা জরিপ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডাটাবেজ ব্যবহার করা হবে। সেখান থেকে প্রকৃত এবং উপযুক্ত সুবিধাভোগীকে শনাক্ত এবং এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা হবে।

Advertisements