বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

৫ দশক পর আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

৫ দশক পর আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর মানবজাতি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চাঁদকে কেবল দূর থেকে দেখেছে। চাঁদের মাটিতে পা রাখার সেই অপ্রাপ্য স্বপ্ন এবার নতুন রূপে সামনে এসেছে। বিজ্ঞানীরা এই অভিযানকে শুধু চাঁদের কক্ষপথে তথ্য সংগ্রহের মিশন হিসেবে দেখছেন না বরং এটি ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রস্তুতির একটি বড় ধাপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

নাসা ঘোষিত আর্টেমিস-২ মিশনের লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে নভোচারীদের পাঠিয়ে পরিবেশ, ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য এবং চাঁদ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা। এই অভিযানকে সফল করতে পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। রকেট উৎক্ষেপণ হবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এবং মিশনের সময়কাল হবে প্রায় ১০ দিন। এই দীর্ঘ মহাকাশযাত্রায় নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর চাঁদের চারপাশে ‘ফিগার-এইট’ আকৃতির পথে উড্ডয়ন করবেন। তবে এই অভিযানে চন্দ্রযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না কারণ ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি বর্তমান কাঠামোর হিসেবে পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য তৈরি নয়।

মিশনের দলের সদস্যরা হলেন নাসার অভিজ্ঞ নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি থেকে প্রতিনিধি জেরেমি হ্যানসেন। তারা প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে অবস্থান পরীক্ষা করবেন এবং ধীরে ধীরে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-২ মিশন অ্যাপোলো-১৭ এর পর মানবজাতির চাঁদ সংক্রান্ত গবেষণায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। প্রথম দফার পরীক্ষামূলক মিশনে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল তবে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি সফল হয়েছে। রকেটে ৭ লাখ গ্যালনেরও বেশি জ্বালানি ভরাট করা হয়েছে যা মিশনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই অভিযান কেবল চাঁদ ঘুরে তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নাসার বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি মঙ্গলগ্রহসহ অন্যান্য গ্রহে মানুষের ভবিষ্যত অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষণ ক্ষেত্রও হবে। আর্টেমিস-২ সফল হলে নাসা পরবর্তী মিশন আর্টেমিস-৩ পরিকল্পনা শুরু করবে যা চাঁদের মাটিতে মানুষের পুনঃঅবতরণের দিকে পরিচালিত হবে।

একদিকে চীন মহাকাশ গবেষণায় ২০৩০ সালের মধ্যে নিজের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে, অন্যদিকে আর্টেমিস-২ মিশন প্রযুক্তি ও মানবজাতির জন্য গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশন সফল হলে এটি কেবল এক দেশের মহাকাশ অভিযান নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

চাঁদে ফেরার এই উদ্যোগ মানুষের দীর্ঘকালীন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। শুধু বিজ্ঞান নয়, এটি মানবজাতির সাহস, প্রত্যয় ও অনুসন্ধানী মনোভাবকেও নতুনভাবে উজ্জীবিত করবে।

Advertisements