৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১৮৩৭

IMG_286c2445-6302-4ef3-92c8-23e65545c309

রান্নার গ্যাসের বাজারে আবারও বাড়ল দাম। সরবরাহ সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি এবং ভোক্তাদের নানা অভিযোগের মধ্যেই ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে এখন থেকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এত দিন এর নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

রোববার বিইআরসি নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে। নির্ধারিত দাম একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। শুধু ১২ কেজির সিলিন্ডার নয়, সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও একই অনুপাতে বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা।

এদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এবার দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতি মাসে এলপিজির দাম পর্যালোচনা করে থাকে। সেই ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এবার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন দাম ঘোষণার সময়টিই তৈরি করেছে বাড়তি উদ্বেগ। কারণ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তারা এরই মধ্যে এলপিজির সংকটের মুখে পড়ছেন। কোথাও কোথাও চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন করে নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার দামও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে সরকারি মূল্য বাড়ার পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত দামের চাপও ভোক্তাদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান্নার কাজে দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি এখন অনেক পরিবারের নিত্যদিনের প্রয়োজন। ফলে সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে পারিবারিক ব্যয়ের ওপর। এর সঙ্গে যদি সরবরাহ সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগও থাকে, তাহলে সাধারণ ভোক্তার দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Advertisements

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

Advertisements