বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

সুন্দরবন দিবস আজ

sundarbans

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গর্ব ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম অখণ্ড ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে এটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারই নয়, বরং উপকূলীয় জনপদের জন্য এক অদৃশ্য রক্ষাকবচ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিক্ষয়ের মতো দুর্যোগের বিরুদ্ধে এই বন বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছে। তাই সুন্দরবনকে ঘিরে আমাদের ভালোবাসা কেবল আবেগ নয়, এটি টিকে থাকার প্রয়োজনীয়তা।

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় সুন্দরবন দিবস।

২০০১ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর এবং দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে এই দিনটিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনসম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি। খুলনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর নানা কর্মশালা, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।

ভৌগোলিকভাবে সুন্দরবন বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় বিস্তৃত। পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাতেও এর অংশ রয়েছে। সমগ্র বনভূমির প্রায় ৬৬ শতাংশ বাংলাদেশে এবং ৩৪ শতাংশ ভারতে অবস্থিত। বিশাল এই বনভূমির প্রায় ৩১ শতাংশই নদী, খাল ও জলাভূমিতে পরিপূর্ণ, যা একে অনন্য বাস্তুতন্ত্রে পরিণত করেছে।

সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার। এখানে বাস করে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, লোনা পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, প্রায় ২৯০ প্রজাতির পাখি এবং ১২০ প্রজাতির মাছ। মোট ৪৫৩টিরও বেশি প্রাণীর আবাসস্থল এই বন।উদ্ভিদের মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য—সুন্দরী ও গেওয়া প্রজাতির গাছ এই বনের পরিচিত প্রতীক। এই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যই সুন্দরবনকে বিশ্ববাসীর কাছে অনন্য করে তুলেছে।

সুন্দরবন ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯২ সালে এটি রামসার স্থান হিসেবে ঘোষিত হয় যা আর্দ্রভূমি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা, গবেষণা ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিবছর অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে এসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং পরিবেশ সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি নিয়ে ফিরে যান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এই বন কার্বন শোষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সিডর, আইলা কিংবা আম্পানের মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সময় সুন্দরবনই বাংলাদেশের উপকূলকে বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। তাই সুন্দরবন দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার অঙ্গীকারের প্রতীক। বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণই হতে পারে এই দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য।

আজকের দিনে আমাদের প্রত্যয় হোক—সুন্দরবনের প্রতিটি গাছ, প্রতিটি প্রাণী এবং প্রতিটি নদীনালাকে ভালোবাসার বন্ধনে আগলে রাখব। কারণ সুন্দরবন বাঁচলে বাঁচবে উপকূল, আর উপকূল বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ।

Advertisements