ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন — রেকর্ড সংখ্যক দল, প্রতীক ও ভোটারের উপস্থিতি

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রেকর্ড তৈরি করেছে — সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভোটার অংশগ্রহণও এই বছরের এক সর্বোচ্চ রেকর্ড টেনেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন—যার মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ, পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং ১,২২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।
ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত চলবে এবং সারাদেশে প্রায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে কারণ একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রয়েছে। এ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ২০২৮ প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পাশাপাশি, ইসি এই নির্বাচনের জন্য ১১৫টি আলাদা প্রতীক গেজেটে প্রকাশ করেছে — যা নির্বাচনে ব্যবহারযোগ্য প্রতীকগুলোর সংখ্যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে রয়েছে সাবল, ঈগল, ট্রাক, হাত, টেলিফোন, ছাতা, কম্পিউটার, রিকশা, শাপলা কলি, মই, কাস্তে প্রভৃতি প্রতীক।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু বড় দলগুলোর প্রতীক ও প্রার্থীর সংখ্যা (উল্লেখযোগ্য):
বিএনপি (ধানের শীষ)— সর্বোচ্চ প্রার্থী সংখ্যা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (দাঁড়িপাল্লা)
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা)
জাপা (লাঙল)
অন্যান্য দল যেমন গণ অধিকার পরিষদ (ট্রাক), সিপিবি (কাস্তে), বাসদ (মই), খেলাফত মজলিস (রিকশা) এবং এনসিপি (শাপলা কলি) বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগের ২০২৪ সালের নির্বাচনেও দল ও প্রতীকের সংখ্যা কম ছিল তাই এবারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ নির্বাচনের জন্য দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকল স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে ভোটটা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বাংলাদেশে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিসরের নির্বাচন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে — সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার, বৃহৎ দলসংখ্যা ও প্রতীকের ব্যাপ্তিতে।
এই নির্বাচনের সঙ্গে পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে যা দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে জনগণের মতাভিমতের সুযোগ দেবে। গণভোটে ভোটাররা নানামুখী ইস্যুতে ‘হ্যাঁ/না’–র ভোট দেবেন যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শহর ও গ্রাম—সকল জায়গায় ভোটের উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যানার, ফেস্টুন, গণসভা এবং বিভিন্ন জনসমাবেশ দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দিতে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দৃঢ়—অনেকের প্রত্যাশা, এবারের নির্বাচন ভোটের হার কালের মধ্যে রেকর্ড গড়ে আবারো ইতিহাস সৃষ্টি করবে।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু এটি সর্বোচ্চ দল ও প্রতীক নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে মোট ৫০টি দল ও ১১৯টি প্রতীক বিভিন্ন প্রার্থীর ভোট প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দেশজুড়ে ১২.৭৭ কোটিরও বেশি ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন—একটি রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে।



