বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্য

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্ক স্বাস্থ্য: পুষ্টি-ভিত্তিক উপায়

Sin-titulo-128-x-128-px-1024-x-683-px-31-1-768×512

মস্তিষ্কটা যেন আমাদের শরীরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এখান থেকেই পরিচালিত হয় স্মৃতি, অনুভূতি, সিদ্ধান্ত আর স্বপ্নের সব আয়োজন। কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন—খুব পরিচিত একটি নাম মনে করতে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেলেন? কিংবা কী বলতে চেয়েছিলেন, তা মুহূর্তেই যেন হারিয়ে গেল? এ ধরনের ভুলে যাওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক—ক্লান্তি, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা মানসিক দুশ্চিন্তার ফলেও এমনটা হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই স্মৃতিভ্রংশ ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে, যেমন ডিমেনশিয়া; যা শুধু স্মৃতিকেই নয়, চিন্তাশক্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও প্রভাবিত করে। তখন শুধু ছোটখাটো বিষয় নয়, দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও কঠিন হয়ে ওঠে। স্মৃতি, চিন্তাশক্তি ও আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে, যা ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি ও যত্ন। আমরা যেমন শরীর ফিট রাখতে ভালো খাবার খাই, তেমনই মস্তিষ্ককেও দিতে হয় তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি। কিছু বিশেষ খাবার আছে, যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে, মনোযোগ ধরে রাখতে এবং চিন্তাশক্তি তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে। সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি শুধু শরীরচর্চা নয়—সচেতন খাদ্যাভ্যাসও। কারণ সতেজ মস্তিষ্ক মানেই প্রাণবন্ত চিন্তা, আর প্রাণবন্ত চিন্তাই গড়ে তোলে সম্ভাবনাময় আগামী।

শাকসবজি


পালং শাক, ব্রকোলি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, গাজরের মতো সবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েডস, ভিটামিন-ই, আয়রন, ভিটামিন বি ও ক্যারটিনয়েড উপাদান। এগুলো মস্তিস্কে স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ব্রেনকে আরও কার্যক্ষম করে তোলে।

Advertisements

বেরি


বেরি এবং রঙিন ফল হচ্ছে প্রকৃতির ফার্মেসি। ফল এবং সবজির রঙ – লাল, কমলা, হলুদ, নীল, বেগুনি – বেশিরভাগই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থেকে তৈরি। এই যৌগগুলি মস্তিষ্কের কোষগুলিকে রক্ষা করে, মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে।

বাদাম


রোজ একমুঠো বাদাম খাওয়া স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য দারুণ কার্যকর। বাদাম খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমে। আখরোট, চিনাবাদাম ও কাজুবাদাম, আমন্ডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি, ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি সিক্স ও ভিটামিন ই। যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

বীজ


কুমড়োর বীজ, সূর্যমুখী বীজ এবং তিসির বীজ মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে। এগুলোতে ভিটামিন ই, জিঙ্ক এবং ওমেগা-৩ প্রচুর পরিমাণে থাকে। ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মস্তিষ্কের কোষগুলিকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। জিঙ্ক স্মৃতি গঠন এবং স্মরণে সহায়তা করে।

ডার্ক চকলেট


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডার্ক চকোলেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক। কমপক্ষে ৭০% কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেটে ফ্ল্যাভোনয়েড নামক শক্তিশালী যৌগ থাকে। ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে, অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধি করে। এগুলোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে এবং মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করার সাথে যুক্ত।

সামুদ্রিক মাছ


ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে একটি। চর্বিযুক্ত মাছ ডোকোসাহেক্সেনয়িক অ্যাসিড (DHA) সমৃদ্ধ, যা একটি ওমেগা-3। ওমেগা-3 মস্তিষ্কের কোষের ঝিল্লির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তৈরি করে। প্রতিদিন না হলেও, সপ্তাহে দু’দিনও যদি মাছ খাওয়া যায়, তা মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী।

কখন পেশাদার পরামর্শ চাইতে হবে:

  • ঘন ঘন স্মৃতিশক্তি হ্রাস দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে
  • নতুন তথ্য শিখতে অসুবিধা
  • চেনা জায়গায় হারিয়ে যাওয়া
  • হঠাৎ ব্যক্তিত্ব বা আচরণের পরিবর্তন

ব্যক্তির যদি দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে সমস্যা হয় অথবা বিভ্রান্ত বা দিশেহারা মনে হয়, তবে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন।

Advertisements