বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনবুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
বিবিধ

অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর ইইউ, এক দেশে নিবন্ধন হলে অন্য দেশে আবেদন বাতিল

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ডাবলিন রেগুলেশনের নতুন সংস্করণ অনুমোদনের মাধ্যমে ইইউ নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়...

eeu-20260205120630

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ডাবলিন রেগুলেশনের নতুন সংস্করণ অনুমোদনের মাধ্যমে ইইউ নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি সদস্য দেশে আশ্রয়ের জন্য নিবন্ধিত হলে অন্য কোনো ইইউ দেশে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ আর থাকবে না।

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ নেতাদের এক বিশেষ বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো আশ্রয়প্রার্থী যদি একটি ইইউ দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করেন বা ইউরোড্যাকসহ ইইউর কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে নিবন্ধিত হন তাহলে পরবর্তীতে অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করলে তা অকার্যকর বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি প্রথম নিবন্ধিত দেশেই ফেরত পাঠানো হবে।

ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি মুভমেন্ট’ অর্থাৎ এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসীদের অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ স্থানান্তর বন্ধ করা। একইসঙ্গে আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর করাই নতুন ডাবলিন রেগুলেশনের প্রধান উদ্দেশ্য।

ইইউ কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে একই ব্যক্তি একাধিক দেশে আশ্রয়ের আবেদন করে গোটা ব্যবস্থার ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করছেন। নতুন নিয়ম চালু হলে দায়িত্ব বণ্টন পরিষ্কার হবে এবং অপব্যবহার কমবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভূমধ্যসাগরীয় সীমান্তবর্তী দেশগুলো—বিশেষ করে ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টা—আরও বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অধিকাংশ অভিবাসী প্রথমে এসব দেশেই প্রবেশ করেন এবং সেখানেই তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়।

এই উদ্বেগের জবাবে ইইউ নেতারা দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে আর্থিক সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর বিষয়টিও নতুন কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে নতুন এই কঠোর নীতিকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে এই বিধিনিষেধ আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক মানবিক ও আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।

একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মুখপাত্র বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রথম প্রবেশকারী দেশগুলোর আশ্রয় ব্যবস্থা দুর্বল ও অপ্রতুল। সেসব দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে আশ্রয়প্রার্থীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।

নতুন সিদ্ধান্তের খবরে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে বা পরিস্থিতির চাপে কোনো একটি দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলে ভবিষ্যতে অন্য দেশে আশ্রয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপে আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও কঠোর করে তুলবে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আইনি ঝুঁকি বাড়াবে।

নতুন ডাবলিন রেগুলেশন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে ইইউ সূত্র। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

অভিবাসন নীতিইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)