বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

৩ কারণে চাকরি হারাচ্ছে জেন-জি কর্মীরা

bc5d6fe5a260c15743d741297c58aa7e-66c2ff079b2f4

জেন-জি প্রজন্মের কাছে চাকরি মানেই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে বসে থাকা। এই ধারণা আর আগের মতো নেই। তারা কাজকে দেখছে স্বাধীনতা, দক্ষতা আর জীবনের ভারসাম্যের জায়গা থেকে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট কাজের সুযোগ বাড়ায়, প্রথাগত চাকরির প্রতি আগ্রহ অনেকটাই কমেছে।

এই প্রজন্মের বড় একটা অংশ কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে করোনা মহামারির মতো অনিশ্চিত সময়ে। ফলে চাকরি নিয়ে তাদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও কাজের ধরন আগের প্রজন্মের চেয়ে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০ শতাংশ জেন-জি কর্মী চাকরি হারাচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে অলসতা বা অযোগ্যতা নয়। বরং আছে মানসিকতা ও কর্মসংস্কৃতির বড় পার্থক্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৩টি মূল কারণে জেন-জি কর্মীরা চাকরি থেকে বাদ পড়ছে—

১. অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেড়ে ওঠা

Advertisements

জেন-জি শৈশব থেকেই দেখেছে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা, চাকরি হারানো, বেতন কমে যাওয়া আর সাম্প্রতিক করোনা মহামারি। এসব অভিজ্ঞতা তাদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। ফলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি চাকরির চেয়ে স্বাধীনভাবে আয়ের পথ খুঁজতে আগ্রহী।

তারা বিশ্বাস করে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের শর্তে কাজ করাই বেশি নিরাপদ। তাই প্রথাগত চাকরির নিয়মকানুনে অনেক সময় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

২. যোগাযোগ ও অফিস সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ না খাওয়া

জেন-জি ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় হলেও মুখোমুখি অফিস মিটিং, আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা করপোরেট আচরণে তারা শুরুতে স্বচ্ছন্দ নয়। করোনাকালে ঘরে বসে কাজ করার অভ্যাস এই দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান এটিকে অযোগ্যতা হিসেবে দেখলেও বাস্তবতা ভিন্ন। জেন-জি এমন কাজ চায় যেখানে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সৃজনশীলতা দেখাতে পারে এবং নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ পায়।

৩. কাজের পাশাপাশি জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া

জেন-জি মনে করে জীবন শুধু চাকরির জন্য নয়। মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত সময় আর নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তারা এমন কর্মপরিবেশ চায় যেখানে কাজের চাপ ব্যক্তিগত জীবনকে গ্রাস করবে না। নির্দিষ্ট সময়ের চাকরির চেয়ে তারা ফ্লেক্সিবল কাজ, রিমোট জব কিংবা নিজস্ব উদ্যোগে আয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়।

প্রথাগত চাকরির বাইরে জেন-জির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

জেন-জি প্রজন্ম এমন কর্মক্ষেত্র চায় যেখানে—

* স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়

  • সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ থাকে
  • দক্ষতা অনুযায়ী আয় বাড়ানো যায়
  • কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় থাকে

তাই তারা চিরাচরিত চাকরির বদলে নতুন ধরনের কাজ ও আয়ের পথ বেছে নিচ্ছে।

জেন-জি কর্মীরা অলস বা উদাসীন নয়। তারা চায় স্বাধীনতা, আত্মউন্নয়ন আর ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রজন্মের ভাবনা ও প্রয়োজন বুঝে নিজেদের কর্মসংস্কৃতি বদলাতে পারবে। তারাই ভবিষ্যতে সবচেয়ে উদ্ভাবনী ও সফল হয়ে উঠবে।

চাকরি নয় জেন-জি চায় এমন কা যা তাদের সক্ষমতা, উদ্দীপনা আর সৃজনশীলতাকে সত্যিকারের বিকশিত করতে পারে।

Advertisements