১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

চুলায় আগুন নেই? গ্যাস ছাড়াই রান্নার স্মার্ট সমাধান

259184_1

সকালে ঘুম থেকে উঠে চুলা জ্বালাতে গিয়ে দেখলেন গ্যাস নেই! দোকানে ফোন দিলে লাইন পাওয়া যাচ্ছে না। আর যাঁদের লাইনের গ্যাস তাঁদের চুলায় আগুন জ্বলছে টিমটিম করে। তাতে রান্না তো দূরের কথা পানি গরম করাও দায়। এমন গ্যাসসংকটে দেশের প্রায় সব জেলার মানুষই পড়েছেন ভোগান্তিতে।

কিন্তু গ্যাস নেই বলে কি না খেয়ে থাকা যায়? মোটেও না। একটু বুদ্ধি আর হাতের কাছের ইলেকট্রিক যন্ত্রগুলো ঠিকভাবে ব্যবহার জানলেই এই সংকট সহজেই সামাল দেওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্যাস না থাকলেও রান্নার কিছু কার্যকর বিকল্প উপায়।

ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক চুলা

গ্যাসের সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত বিকল্প হলো ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক চুলা। ইন্ডাকশন কুকার সাধারণ চুলার চেয়ে ২৫–৫০ শতাংশ দ্রুত রান্না করতে পারে। এটি সরাসরি পাতিলের তলায় তাপ দেয়। তাই সময় ও বিদ্যুৎ দুটোই সাশ্রয় হয়।

এ ছাড়া পরিষ্কার করা সহজ, আগুনের ঝুঁকি কম এবং শিশু থাকলেও তুলনামূলক নিরাপদ। শুধু খেয়াল রাখবেন ইন্ডাকশনের জন্য ধাতব বা ম্যাগনেটিক তলাযুক্ত পাত্র লাগবে।

রাইস কুকার

নাম রাইস কুকার হলেও এটি এখন সত্যিকারের ‘মাল্টি কুকার’। গ্যাস না থাকলে ডিম সেদ্ধ, নুডলস, স্যুপ, সবজি বা মাছ ভাপানো সবই করা যায় এতে। একটু কৌশল জানলে খিচুড়ি বা বিরিয়ানিও রান্না করা সম্ভব।তবে সাবধান একবারে বেশি উপকরণ দিয়ে ভরে ফেলবেন না। তাতে কুকার নষ্ট হলে বিপদ আরও বাড়বে।

এয়ার ফ্রায়ার ও ওভেন

আপনার বাসায় যদি এয়ার ফ্রায়ার বা ওভেন থাকে, তাহলে গ্যাসের চিন্তা অনেকটাই কমে যায়।

এয়ার ফ্রায়ারে অল্প বা বিনা তেলে মাছ-মাংস ভাজা, সবজি রোস্ট করা যায়। আর ওভেনে বানাতে পারেন চিকেন রোস্ট, কেক, বিস্কুট কিংবা পাউরুটি একদম রেস্তোরাঁর মতো।

ডায়েট বা স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য এগুলো দারুণ বিকল্প। প্রয়োজনে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম, সবজি সেদ্ধ বা ডিম পোচও করা যায়।

বিদ্যুৎও নেই?

একদম জরুরি অবস্থায় বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরের বাইরে কাঠ বা কয়লার চুলা ব্যবহার করে বারবিকিউ স্টাইলে রান্না সেরে নেওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

‘নো-কুক’ খাবারেও চলে দিন

সব উপায় বন্ধ থাকলে বেছে নিন রান্নাবিহীন খাবার।

ফলমূল, সিরিয়াল, পাউরুটি-জ্যাম, দই বা সালাদ এসব খাবার পুষ্টিকর এবং ঝামেলাহীন।

ব্যবহারে কিছু জরুরি সতর্কতা

১. বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন। ত্রুটিপূর্ণ তার থেকে আগুন বা শকের ঝুঁকি থাকে।

২. রান্না শেষে ইলেকট্রিক যন্ত্র বন্ধ করতে ভুলবেন না।

৩. সুইচ বন্ধ করার পরও চুলা বা পাত্র কিছুক্ষণ গরম থাকে। হাত দেবেন না।

৪. রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

৫. বাসার বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষমতার সঙ্গে মানানসই যন্ত্র ব্যবহার করুন।

৬. ঢিলেঢালা কাপড় পরে রান্না করার সময় সতর্ক থাকুন।

Advertisements