২০২৬ সালে এশিয়ার সেরা দুই ‘ফুড ডেস্টিনেশন’

ভ্রমণ মানেই শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়। নতুন স্বাদ আবিষ্কারও। এখনকার পর্যটকেরা শহরের দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি খুঁজে ফেরেন স্থানীয় খাবারের আসল স্বাদ। সেই কারণেই প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্তের সেরা ‘ফুড ডেস্টিনেশন’ নিয়ে তালিকা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সাময়িকীগুলো।
বছরের শেষে তেমনি একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত ভ্রমণ ম্যাগাজিন ‘কন্ডে নাস্ট ট্রাভেলার’। ২০২৬ সালের জন্য তারা বিশ্বের সেরা ১০টি খাদ্যগন্তব্য শহর বেছে নিয়েছে। এই তালিকায় এশিয়া থেকে জায়গা করে নিয়েছে মাত্র দুটি শহর—হংকং’ও নেপালের পাতান। আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের স্বাদে ভরপুর এই দুই শহরই প্রমাণ করে খাবার একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ইতিহাস বোঝার অন্যতম মাধ্যম।
আপনি যদি ২০২৬ সালে এশিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে এই দুই শহর থাকতে পারে আপনার তালিকার শীর্ষে।
আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের স্বাদে হংকং
হংকং এমন এক শহর যেখানে আকাশছোঁয়া ভবনের ছাদে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ আর পাশের গলিতেই শত বছরের পুরোনো স্ট্রিট ফুডের দোকান দুটোই সমান জনপ্রিয়। এখানকার খাবারে যেমন আছে নিখুঁত স্বাদের ভারসাম্য। তেমনি আছে সংস্কৃতির গভীর ছাপ।
দিন শুরু করতে পারেন ধোঁয়া ওঠা ডিম সাম বা এক বাটি চিংড়ি ওয়ানটন নুডলস দিয়ে। স্থানীয় বাজারে ঘুরে ঘুরে চেখে দেখতে পারেন জনপ্রিয় কারি ফিশ বল। কিংবা ঐতিহ্যবাহী রোস্টেড গুজ ও হাঁসের মাংস।
হংকংয়ের বিখ্যাত সিল্ক স্টকিং মিল্ক টি–এর আধুনিক সংস্করণ কিংবা বিভিন্ন স্বাদের বাবল টিও দারুণ জনপ্রিয়। মিষ্টি পছন্দ হলে এগ কাস্টার্ড টার্ট খেতে ভুলবেন না। এই টার্টের জন্য অনেক সময় লম্বা লাইনে দাঁড়াতেও রাজি পর্যটকেরা।
আর যদি ফিউশন খাবারের স্বাদ নিতে চান। তাহলে মিশেলিন তারকাপ্রাপ্ত শেফদের রেস্তোরাঁয় চীনা, ফরাসি ও জাপানি রন্ধনশৈলীর অনন্য মেলবন্ধন আপনাকে মুগ্ধ করবে।

হিমালয়ের কোলে স্বাদের জাদুঘর: পাতান
নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকার প্রাচীন শহর পাতান (ললিতপুর) এখন দেশটির রন্ধনশৈলীর নবজাগরণের কেন্দ্র। ইতিহাস আর আধুনিকতার এই শহরে খাবার মানেই এক ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
ইউনেসকো স্বীকৃত পাতান দরবার স্কয়ার এর আশপাশে ঘুরতে ঘুরতেই পাওয়া যাবে বহু পুরোনো রেসিপির খাবার। এখানে জনপ্রিয় বারা ডাল দিয়ে তৈরি প্যানকেক। স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার। আবার শত বছরের পুরোনো পরিবেশে বসে খেতে পারেন ঠান্ডা ও ঝাল লাফিং। যা তিব্বতীয় নুডলসের বিশেষ এক রূপ।
বিকেলে চাইলে অর্গানিক হিমালয়ান চা–এর রাজকীয় স্বাদ নিতে পারেন ঐতিহ্যবাহী চা ঘরে। আর নেপালে গিয়ে মোমো না খেলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে হিমালয়ান হার্ব ব্রথে ডুবানো বাফেলো মোমো পর্যটকদের মুখে মুখে ফেরে।
কেন এই দুটি শহর আলাদা?
হংকং ও পাতান দুই শহরের খাবারই শুধু স্বাদে নয় গল্পেও সমৃদ্ধ। একটি শহর দেখায় আধুনিক এশিয়ার দ্রুত বদলে যাওয়া রন্ধনশৈলী, অন্যটি তুলে ধরে প্রাচীন ঐতিহ্যের জীবন্ত স্বাদ।
২০২৬ সালে যদি আপনার ভ্রমণ তালিকায় থাকে খাবারকে কেন্দ্র করে নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা। তাহলে এই দুই এশীয় ফুড ডেস্টিনেশন নিঃসন্দেহে আপনাকে হতাশ করবে না।



