বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
নারী

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ড: আদালতে দোষ স্বীকার করলেন গৃহকর্মী আয়েশা

WhatsApp Image 2025-12-10 at 7.29.06 PM

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আয়েশার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম রিমান্ড শেষে আয়েশাকে আদালতে হাজির করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামি স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ফুফুশাশুড়ির বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত আয়েশার ছয় দিনের এবং তার স্বামীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৪ ডিসেম্বর রাব্বিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ ডিসেম্বর আয়েশা আক্তার আজিজুল ইসলামের বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ৮ ডিসেম্বর সকাল সাতটার দিকে আজিজুল ইসলাম কাজে বের হয়ে যান। কর্মস্থল থেকে তিনি একাধিকবার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।

পরে বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রী লায়লা ফিরোজ গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। একই সময়ে তার কন্যাকেও গলায় গুরুতর জখম অবস্থায় বাসার মেইন গেটের কাছে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ৮ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে আয়েশা বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisements