মশার কাছে ‘ফার্স্ট চয়েস’ কেন সবসময় আপনি?যে কারণে আপনাকেই বেশি ‘পছন্দ’ মশার! লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন

একসঙ্গে অনেক মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, অথচ দেখা গেল মশার কামড় যেন শুধু একজনকেই সহ্য করতে হচ্ছে! বিষয়টি অনেকের কাছে কাকতালীয় মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। মানুষের শরীর থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, ঘাম, শরীরের তাপমাত্রা, ত্বকের রাসায়নিক উপাদানসহ বেশ কিছু বিষয় মশাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করতে পারে।
জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন কারণে কিছু মানুষ মশার কাছে তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন।

বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ
মশা মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করতে পারে। তাদের বিশেষ সেন্সর দূর থেকেই এই গ্যাসের উপস্থিতি বুঝতে সক্ষম। ফলে যারা ব্যায়াম করেন, দ্রুত হাঁটেন বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে ঘন ঘন ও জোরে শ্বাস নেন, তাদের প্রতি মশার আকর্ষণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে এডিসসহ কিছু প্রজাতির মশা কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রতি সংবেদনশীল।
রক্তের গ্রুপও ভূমিকা রাখে
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু রক্তের গ্রুপের মানুষের প্রতি মশার আকর্ষণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ‘ও’ রক্তের গ্রুপের মানুষদের মশা বেশি কামড়ানোর প্রবণতার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এরপর রয়েছে ‘বি’ গ্রুপ। তবে মশা কীভাবে মানুষের রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করে এবং এর পেছনে ঠিক কোন রাসায়নিক সংকেত কাজ করে, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
ঘামের গন্ধে আকৃষ্ট হয় মশা

ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বের হয়। এর মধ্যে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়ার মতো উপাদান রয়েছে। যারা বেশি ঘামেন, তাদের শরীর থেকে এসব উপাদান তুলনামূলক বেশি নির্গত হতে পারে। আর এসব গন্ধ মশাকে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে
মানুষের শরীরের তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনও মশা অনুভব করতে পারে। শরীরে থাকা তাপসংবেদী রিসেপ্টরের মাধ্যমে তারা উষ্ণতার উৎস শনাক্ত করে। ব্যায়ামের পর শরীর গরম হয়ে গেলে কিংবা জ্বরের সময় দেহের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মশার আকর্ষণও বাড়তে পারে।
অ্যালকোহল সেবনের প্রভাব

কিছু গবেষণায় অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে মশার কামড়ের প্রবণতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অ্যালকোহল গ্রহণের পর শরীরের রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হতে পারে এবং ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রায়ও পরিবর্তন হতে পারে। এসব কারণ মশার কাছে একজন মানুষকে তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
ত্বকের ব্যাকটেরিয়াও কারণ হতে পারে
মানুষের ত্বকে নানা ধরনের অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া স্বাভাবিকভাবেই বসবাস করে। এসব অণুজীব ত্বকের ঘাম ও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে বিশেষ ধরনের গন্ধ তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকে থাকা নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মশার আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
অর্থাৎ, একই জায়গায় থাকা একাধিক মানুষের মধ্যে কাউকে যদি মশা বেশি কামড়ায়, সেটি নিছক কাকতালীয় নাও হতে পারে। নিঃশ্বাসের ধরন, ঘাম, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তের গ্রুপ এবং ত্বকের নিজস্ব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য—সব মিলিয়েই একজন মানুষ মশার কাছে অন্যদের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেন।



