বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
নারী

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ, শাহজাদীর মাসে আয় ৩০ হাজার টাকা

Untitled-1

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের গৃহিণী শাহজাদী বেগম এখন এলাকার সফল মাশরুম উদ্যোক্তা। সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে ইউটিউবের ভিডিও দেখে মাশরুম চাষে হাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুতে অবহেলা আর উপহাসের শিকার হলেও আজ তার মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

১০ হাজার টাকা পুঁজিতে যাত্রা

২০২৩ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বাড়ির পাশের একটি আধাপাকা আর একটি মাটির ঘরকে উপযোগী করে চাষ শুরু করেন শাহজাদী। প্রথমে ৫০টি সিলিন্ডার দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার প্রকল্পে রয়েছে ৪০০টি সিলিন্ডার। এখান থেকে প্রতিদিন ৫–৬ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মাশরুমের দাম ৩০০ টাকা হওয়ায় মাসে ৪০–৪৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেন তিনি। সব খরচ মিলিয়ে আয় থাকে ২৫–৩০ হাজার টাকা।

সফলতা দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন অনেকে

শাহজাদীর সফলতা দেখে স্থানীয় অনেকেই এখন মাশরুম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা তার প্রকল্পে এসে শেখার চেষ্টা করেন, আর শাহজাদীও যতটা জানেন, হাতে–কলমে শেখান।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, মাশরুম চাষ খুব সম্ভাবনাময় একটি খাত। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সরকারি পর্যায় থেকে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শাহজাদীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চাহিদা বেশি, উৎপাদন কম

বর্তমানে দেশে মাশরুমের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন তুলনামূলক কম, তাই বাজারে সরবরাহ রাখতে হিমশিম খেতে হয় শাহজাদীর। তিনি জানান, ৩০–৩৪ দিনের মধ্যেই মাশরুম বিক্রির উপযোগী হয়। কাঁচা বিক্রি হয় ৩০০ টাকা কেজি দরে আর শুকনা মাশরুম যায় ২ হাজার টাকা কেজিতে।

পরিবারের স্বচ্ছলতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

মাশরুম বিক্রির আয় দিয়ে সংসারের খরচই নয়, দুই সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয়ও চলে। শীতে উৎপাদন ভালো হলেও গরমে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে চাষ বন্ধ রাখতে হয় কয়েক মাস। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনার কথাও জানান শাহজাদী।

Advertisements