বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনো, তবে কি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর ২০২৭?

heatwave-b3d44c46309652d7c4067672d8972ed8

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সাল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে মেট অফিসের পূর্বাভাসের বরাতে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে এল নিনো তৈরি হচ্ছে, তা চলতি বছরের শেষ দিকে সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে পারে। এর শক্তি সাম্প্রতিক কয়েক দশকের তুলনায় অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ জানিয়েছেন, এল নিনোর যে ধরনের শক্তিশালী সংকেত বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তা তাঁর আগে দেখা হয়নি। তিনি পরিস্থিতিটিকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে সংরক্ষিত আবহাওয়া রেকর্ডে এমন শক্তিশালী এল নিনোর নজির পাওয়া যায়নি। এমনকি উনিশ শতকের পর থেকে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী এল নিনোর উপস্থিতি সামগ্রিক তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিজ্ঞানী জেক হাউসফাদার বলেন, এল নিনো এখনো বিকাশমান অবস্থায় রয়েছে। এর পূর্ণ শক্তি প্রকাশ পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে।

তবে এল নিনোর ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন ঘটছে বা এর শক্তি বাড়ছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব এবং চলমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একসঙ্গে কাজ করলে ২০২৭ সালে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ, চরম আবহাওয়া ও অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে আরও প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।

Advertisements