বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

গরম ভাতের সঙ্গে ‘গোপাল ভাঁড়’, কেন এত জনপ্রিয় এই জুটি?

IMG_4042

গরম ভাতের ধোঁয়া ওঠা প্লেট, পাশে মাছের ঝোল, ডাল কিংবা ভর্তা—আর হাতে মোবাইল। স্ক্রিনে চলছে ‘গোপাল ভাঁড়’। একটি গল্প শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয় আরেকটি। গল্প দেখতে দেখতে কখন যে প্লেট খালি হয়ে যায়, অনেকেই তা টের পান না। তাই অনেকের কাছে ভাত আর গোপাল ভাঁড় যেন একে অন্যের পরিপূরক।

বাঙালির খাবারের সঙ্গে গল্পের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। একসময় দুপুর কিংবা রাতের খাবারের টেবিলে গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডায় জমে উঠত সময়। এখন সেই জায়গার বড় অংশ দখল করেছে মোবাইলের পর্দা। আর সেখানে গোপাল ভাঁড়ের সহজ-সরল হাস্যরস, বুদ্ধিদীপ্ত কাণ্ডকারখানা ও ছোট ছোট গল্প হয়ে উঠেছে খাওয়ার সময়ের প্রিয় সঙ্গী।

কারও কাছে এটি নিছক বিনোদন, আবার কারও কাছে খাবারের সময়ের নিয়মিত অভ্যাস। নিয়ল বলেন, ‘আমি এখনও গোপাল ভাঁড় না দেখে তিন বেলার খাবারই খেতে পারি না।’

শুধু অভ্যাস নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে ছোটবেলার স্মৃতিও। টেলিভিশনের পর্দা কিংবা বইয়ের পাতায় দেখা গোপালের দুষ্টুমি, বুদ্ধি ও মজার কাণ্ড বড় হওয়ার পরও অনেককে টানে। তাই খেতে খেতে গোপালের গল্প দেখার আনন্দও যেন আলাদা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লাবিবা বলেন, ‘আমার বয়স যতই হোক, আমি কোনো দিন গোপাল ভাঁড় দেখা ছাড়ব না।’

শীত এলে ভাত আর গোপাল ভাঁড়ের এই কম্বিনেশনের মজাটাও যেন বেড়ে যায়। কম্বল মুড়ি দিয়ে গরম খাবারের সঙ্গে গোপালের গল্প—অনেকের কাছেই শীতের আরামের অন্যতম সঙ্গী। রাইসা বলেন, ‘কম্বল মুড়ি দিয়ে গোপাল ভাঁড়, তার সঙ্গে গরম ধোঁয়া ওঠা খাবার—আমার সবচেয়ে পছন্দের কম্বিনেশন।’

গোপাল ভাঁড়ের জনপ্রিয়তার পেছনে তার গল্প বলার ধরনও বড় ভূমিকা রাখে। ছোট ছোট ঘটনা, সহজ সংলাপ, হাস্যরস আর শেষ মুহূর্তের চমক দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে। একই গল্প একাধিকবার দেখলেও বিরক্তি কম হয়। বরং পরিচিত চরিত্র ও গল্প অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

কোনো নির্দিষ্ট কাজের সঙ্গে একই ধরনের বিনোদন বারবার যুক্ত হলে সেটি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। ফলে খাবারের সময় গোপাল ভাঁড় দেখা অনেকের কাছে এক ধরনের ‘কমফোর্ট রুটিন’ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ খাবারের টেবিলে বসা আর গোপালের গল্প—দুটি বিষয় বারবার একসঙ্গে ঘটতে ঘটতে মস্তিষ্কের কাছে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

তবে খাওয়ার সময় নিয়মিত স্ক্রিন দেখার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। এমনকি কতটা খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও সচেতনতা কমে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই গোপালের গল্প যতই মজার হোক, খাবারের সময় নিজের খাওয়ার পরিমাণ ও অভ্যাসের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

Advertisements