যৌতুকের চাপ ও দীর্ঘ নির্যাতন: আইনের আশ্রয়ই ভরসা অসহায় নারীদের

মুন্সিগঞ্জের এক নারী বিয়ের পর টানা ১৪ বছর ধরে স্বামীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং ইঙ্গিতে যৌতুকের দাবির শিকার হয়ে আইনি সমাধান খুঁজছেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৮ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামী নিয়মিত বিভিন্ন অজুহাতে রাগ প্রকাশ করেন এবং আর্থিক সহায়তার নামে যৌতুকের চাপ সৃষ্টি করেন বলে ওই নারীর অভিযোগ। দেশের নানা প্রান্তে এখনো ঘরে ঘরে একই চিত্র, যৌতুকের দাবি ও আর্থিক চাপকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অসংখ্য নারী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌতুক দাবি, গ্রহণ বা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি—সবই ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮’-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে প্রথমেই প্রমাণ সংরক্ষণ জরুরি—যেমন হুমকিসংক্রান্ত অডিও–ভিডিও, মেসেজ, কল রেকর্ড, প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের সাক্ষ্য, শারীরিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নথি ইত্যাদি। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় জিডি করলে ভবিষ্যতের মামলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর অধীনেও মামলা করা যায়। অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত করবে এবং প্রমাণ মিললে তা আদালতে পাঠানো হবে। এতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও ভবিষ্যতে ভরণপোষণ, সন্তানের হেফাজত বা বিবাহবিচ্ছেদ–সংক্রান্ত মামলায় তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
আইনজীবীরা জানান, ৮ বছর বয়সী সন্তানের হেফাজতের ক্ষেত্রে সাধারণত মায়ের পক্ষটাই অগ্রাধিকার পায়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন বিচারক।
জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, মহিলা সহায়তা কেন্দ্রের ১০৯, কিংবা স্থানীয় নারী সহায়তা কেন্দ্র ও আইন সহায়তা সংস্থাগুলোর সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতন ও যৌতুকের চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে আইনের আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।



