বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

‘ঘুষ.সাইট’-এ তিন দিনে ১,৮৫৬ অভিযোগ, ঘুষ দাবির অঙ্ক ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা

151698ce204d51ea0b0dbbcba3fac439-6a8c25b2d624f

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় এবং কত টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনতে চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’। গত ২১ আগস্ট চালুর পর মাত্র তিন দিনে ওয়েবসাইটটিতে ১ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বাংলাদেশি দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো, নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সেবায় দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা। তবে এটি কোনো তদন্ত সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প নয়। সাইটে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ‘যাচাইহীন’ উল্লেখ করা থাকে।

‘ঘুষ.সাইট’-এ অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। দুই মিনিটেরও কম সময়ে অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে—এই পাঁচটি তথ্য দিতে হয়।

অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, পদবি বা ফোন নম্বর প্রকাশের নিয়ম নেই। নির্দিষ্ট কাউকে টার্গেট করার বদলে কোন সেবা খাতে অনিয়ম বেশি হচ্ছে, সেটিই তুলে ধরতে চায় প্ল্যাটফর্মটি।

ব্যবহারকারীর দেওয়া অভিযোগও সরাসরি প্রকাশ করা হয় না। প্রকাশের আগে তা মডারেশনের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট বা নীতিমালা ভঙ্গকারী অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়।

জেলা বা বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে—৮৬৯টি। চট্টগ্রাম থেকে ৪৩৮, রাজশাহী থেকে ১২২, খুলনা থেকে ১১৫, রংপুর থেকে ৯৮, সিলেট থেকে ৭৯, ময়মনসিংহ থেকে ৭১ এবং বরিশাল থেকে ৬৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের মতে, নাগরিকদের সরকারি সেবা নেওয়ার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানানো এবং অন্যায্য ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যানে উৎসাহিত করাই প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম লক্ষ্য।

কোনো এনজিও বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান ছাড়াই নিজেদের অর্থে ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তারা। তবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বেচ্ছা অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা সাইফ কবিরের ভাষ্য, শুধু ওয়েবসাইটের দর্শনার্থীর সংখ্যা দিয়ে তাদের সাফল্য মাপা হবে না। কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নেওয়ার আগে কোথায় ঘুষ চাওয়া হচ্ছে তা জেনে অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারলে সেটিকেই তারা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

Advertisements