না ফেরার দেশে ‘জনি অ্যাঞ্জেল’ খ্যাত তারকা শেলি ফ্যাবারেস

হলিউড ও আমেরিকান টেলিভিশন জগতের স্বর্ণালী যুগের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা শেলি ফ্যাবারেস আর নেই। গত শনিবার (২২ আগস্ট) লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
‘এমএএসএইচ’ খ্যাত অভিনেতা ও তার স্বামী মাইক ফারেল এবং পরিবারের সদস্যরা এক যৌথ বার্তায় এই প্রবীণ অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে স্বামী মাইক ফারেল ও পরিবার দ্য পিপলকে জানায়, ‘দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ও মহীয়সী অভিনেত্রী, আর আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ভালোবাসা, শক্তি ও অপার আনন্দের উৎস। তার কাজ ও স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’

আমেরিকান পপ কালচার ও বিনোদন জগতে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের রাজত্ব বজায় রাখা এই অভিনেত্রী পরিবারের ভালোবাসায় ঘেরা অবস্থায় বিদায় নেন।
১৯৪৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় জন্ম নেওয়া শেলি ফ্যাবারেস মাত্র তিন বছর বয়সে মডেলিং দিয়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন। ১৯৫৮ সালে আমেরিকান কালজয়ী সিটকম ‘দ্য ডোনা রিড শো’-তে ডোনা রিডের মেয়ে ‘মেরি স্টোন’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি এই শোর মাধ্যমেই সংগীতজগতে পা রাখেন তিনি। ১৯৬২ সালে তার গাওয়া গান ‘জনি অ্যাঞ্জেল’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর ১ নম্বর স্থান দখল করে এবং পপ ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি হলিউড চলচ্চিত্রেও ব্যাপক সাফল্য পান। রক অ্যান্ড রোলের রাজা এলভিস প্রেসলির বিপরীতে তিনটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র — গার্ল হ্যাপি (১৯৬৫), স্পিনআউট (১৯৬৬) এবং ক্ল্যামবেক (১৯৬৭)-এ নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।
পরবর্তীতে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জনপ্রিয় সিটকম ‘কোচ’-এ ক্রিস্টিন আর্মস্ট্রং চরিত্রে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতির পাশাপাশি একাধিক এমি মনোনয়ন এনে দেয়।
১৯৮৪ সালে অভিনেতা মাইক ফারেলকে বিয়ে করেন ফ্যাবারেস। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন এক অনন্য উদাহরণ। ষাট ও সত্তরের দশকে ক্যারিয়ারের মন্দা কাটিয়ে যেভাবে তিনি বারবার শীর্ষে ফিরেছেন, তা হলিউডে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।



