বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
নারী

খালেদা জিয়ার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ধীরে ধীরে

Untitled-1

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছে, বিদেশে নেওয়ার মতো পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি তার শারীরিক অবস্থা। লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরপর দুই দফা পিছিয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সময়সূচি।

চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিমানে ভ্রমণের মতো স্থিতিশীল নয়। প্রতিদিনই তাকে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। তবে একটি জটিলতা কাটলেই অন্যটি দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের লিভারের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনি সমস্যা আরও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিডনির ক্রিয়েটিনিন মাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস বন্ধ করলেই কিডনির অবস্থা খারাপের দিকে যায়।

মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য সোমবার সন্ধ্যায় জানান, উন্নতি হলেও তা খুব ধীরগতির। বয়স ও বহুমুখী জটিলতার কারণে দ্রুত সুস্থতার সম্ভাবনা কম। প্রতিদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল দেখে ওষুধের মাত্রা কম–বেশি করা হচ্ছে। দেশে ফেরার পর চিকিৎসা বোর্ডের বৈঠকে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তদারকি করছেন।

৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র–সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। দেশি–বিদেশি দুই ডজনেরও বেশি বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তার চিকিৎসায় প্রতিদিন পরামর্শ দিচ্ছে।

এদিকে, উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেটি বাতিল করা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সকালে অবতরণের অনুমতি দিলেও অপারেটর সংস্থা পরে ফ্লাইট স্থগিতের আবেদন করে। এর আগে রোববারও একই কারণে স্লট পরিবর্তন হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপারেটরের সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চূড়ান্তভাবে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ তার শারীরিক অবস্থার ওপর। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে চিকিৎসা বোর্ড।

Advertisements