বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
নারী

ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা

Untitled-6

অল্প বয়সে বিয়ে, সংসার, সন্তান—সব সামলিয়েই নিজের যোগ্যতায় ফ্রিল্যান্সিং জগতে জায়গা করে নিয়েছেন খাগড়াছড়ির তানিয়া খলিল (২২)। এখন তিনি শুধু নিজেই আয় করছেন না, বরং এলাকার শত শত নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন। মাসে তাঁর আয় এখন প্রায় এক লাখ টাকা।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তানিয়ার বিয়ে হয় ২০২১ সালে, কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়। স্বামী ইব্রাহিম খলিল পেশায় ফ্রিল্যান্সার। তাঁর উৎসাহেই তানিয়ার পথচলা শুরু। ২০২৩ সালের শুরুতে দুজনেই খাগড়াছড়ি সদরে চলে এসে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেন।

তানিয়া জানান, বিয়ের পর পড়াশোনা ও সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি ঘরে বসে কিছু করার ইচ্ছে থেকেই ফ্রিল্যান্সিং শেখা শুরু। প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইনে হাতেখড়ি। রং, লে–আউট, টাইপোগ্রাফি—সবই নতুন হলেও আগ্রহের কারণে দ্রুত শিখে ফেলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম লোগো ডিজাইনের কাজ পান তিনি। সেবার আয় মাত্র ১৩ ডলার। কিন্তু সেই প্রথম পারিশ্রমিকই তাঁকে দেয় আত্মবিশ্বাস। এরপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেডসহ বিভিন্ন ডিজাইনে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে ফাইভার ও আপওয়ার্ক—দুই মাধ্যমেই নিয়মিত কাজ করছেন।

৫০০ নারীর প্রশিক্ষক তানিয়া

২০২১ সাল থেকেই স্বামীর প্রতিষ্ঠান ‘খলিল আইটি’-তে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তানিয়া খলিল। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ নারীকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। অনেকেই এখন ঘরে বসে আয় করছেন।

সম্প্রতি তাঁদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়—তিনতলার দোতলায় বড় একটি কক্ষে সারিবদ্ধ ল্যাপটপে কাজ করছেন বেশ কয়েকজন তরুণী। তানিয়া তাঁদের গ্রাফিক ডিজাইনের বিভিন্ন কৌশল শেখাচ্ছেন।

শিক্ষার্থী সুমা জান্নাত বলেন, ‘চার মাস শেখার পরই কাজ শুরু করি। এখন মাসে ২০–৩০ হাজার টাকা আয় হয়।’

আরেক শিক্ষার্থী তৃণা রোয়াজা জানান, ‘ফ্রিল্যান্সিং শিখে এখন নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাতে পারছি।’

চ্যালেঞ্জ জিতেই সাফল্য

সময়সীমার মধ্যে কাজ জমা দেওয়া, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, আবার সন্তান ও পরিবার সামলানো—সবই ছিল তানিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে সম্ভব হতো না। স্বামীই আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী।’

স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

খাগড়াছড়ি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুস্মিতা খীসা বলেন,

‘নারীদের আইসিটি–নির্ভর প্রশিক্ষণে সরকার কাজ করছে। তানিয়া নিজে দক্ষতা অর্জন করে অন্য নারীদেরও এগিয়ে নিচ্ছেন। অস্থায়ী প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলে তাঁর কথা বিবেচনা করা হবে।’

তানিয়ার লক্ষ্য—আরও বেশি নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা। তাঁর ভাষায়,

‘একটি কম্পিউটার আর মনোযোগ থাকলেই এখন ক্যারিয়ার গড়া যায়। আমি শুধু সেটা প্রমাণ করে দেখাচ্ছি।’

Advertisements