বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
নারী

পাকিস্তানে বাড়ছে নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা

young-women-light-casual-smoking

পাকিস্তানে গত এক দশকে পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও নারীদের মধ্যে তা উল্টো বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের ধূমপানসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। দেশটির সামগ্রিকভাবে ধূমপানের হার কমার পরও নারী ও পুরুষের মধ্যে এই প্রবণতার পার্থক্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পাকিস্তানে পুরুষদের ধূমপানের হার ছিল ২২ দশমিক ২ শতাংশ। এক দশক পর ২০২৪ সালে তা কমে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ১০ বছরে পুরুষদের ধূমপানের হার প্রায় ২৯ শতাংশ আপেক্ষিকভাবে কমেছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে পাকিস্তানে নারী ধূমপায়ীর হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক দশকে নারীদের ধূমপানের হার প্রায় ৫৭ শতাংশ আপেক্ষিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুরুষদের তুলনায় নারীদের ধূমপানের হার এখনো অনেক কম। তবে জাতীয়ভাবে ধূমপানের প্রবণতা কমার সময় নারীদের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু জাতীয় গড়ের ওপর ভিত্তি করে তামাক ব্যবহারের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। তাই বয়স, লিঙ্গ ও অন্যান্য জনমিতিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধূমপানের প্রবণতা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নীতি ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ পুরুষদের মধ্যে ধূমপান কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তবে নারীদের মধ্যে কেন ধূমপানের হার বাড়ছে, তার কারণগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করা জরুরি। নারীদের লক্ষ্য করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, তামাকবিরোধী প্রচারণা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

ধূমপানের এই পরিবর্তনশীল প্রবণতা আরও বিস্তারিতভাবে বোঝার জন্য ‘গ্যালপ পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যানালিটিক্স’ ‘পাকিস্তান টোব্যাকো ইনসাইটস’ নামে একটি নতুন ড্যাশবোর্ড চালু করেছে। এতে পাকিস্তানে তামাক ব্যবহারের গত এক দশকের বিভিন্ন তথ্য একত্র করা হয়েছে।

ড্যাশবোর্ডে ‘গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে’ এবং ‘গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে’-এর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক ধূমপানের হার ছাড়াও পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব, সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি নিয়ে মানুষের মতামতের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যভাণ্ডার পাকিস্তানে তামাক ব্যবহারের পরিবর্তিত ধরণ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নারী ও পুরুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতার পার্থক্য চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নে এটি সহায়ক হতে পারে। পুরুষদের ধূমপান কমার ইতিবাচক ধারার পাশাপাশি নারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা প্রবণতাকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisements