বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
নারী

নারীর প্রতি সহিংসতার তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে: উপদেষ্টা শারমীন

Untitled-4

নারীর প্রতি সহিংসতা বা কোনো শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে—এ নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নারী-শিশুর পাশে প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শারমীন এস মুরশিদ।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইতিহাসে যথাযথভাবে স্থান পেতে হবে। দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো দেশ সভ্যতার মধ্যে আছে কি না তা নির্ভর করে সে দেশে নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত আছে কি না। নারীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেশের মান নির্ধারণ করে।”

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেদিন রাস্তায় নেমে আসা ৭০ শতাংশই নারী। তারা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, মেয়েরা কোনো অংশে কম নয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে তারা তাদের ভাইদের মতোই শক্ত অবস্থান নিয়েছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, যদিও সেই ইতিহাস যথাযথভাবে রচিত হয়নি। “চব্বিশে নারীদের অবদান যেন স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ হয়—১১ জন নারী শহীদ হয়েছেন, এটি ইতিহাসের গৌরবময় মুহূর্ত।”

উপদেষ্টা শারমীন আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর অভিজ্ঞতা হলো—অবকাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। “একটি অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারের মধ্য দিয়ে যে অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, তা এক বছরে পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।”

তিনি জানান, কোনো সহিংসতার তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। এই প্রক্রিয়াকে তিনি ‘কুইক রেসপন্স স্ট্র্যাটেজি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে শিশু-কিশোরী ক্লাবগুলোকে পুনরুজ্জবীত করছি। প্রতিটি গ্রামে সহিংসতা হলে সেটা মন্ত্রণালয়ে আসতে হবে। চেন অব অ্যাকশনকে সাবলীল করতে হবে। আগামী ১৬ দিনের কর্মসূচিতে সেটা আমরা শুরু করব।’ ১৬ দিনের কর্মসূচি মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে।

সমাজে নারী নির্যাতনের উপাদান এখনো সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “ধর্মীয় বক্তৃতায় নারীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার নারীদের ঝুঁকিতে ফেলে। সমাজে স্বাভাবিক সম্মানবোধ ভেঙে গেলে পুরো সমাজ ভেঙে পড়ে। গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী পরিবেশে সেই চিত্র দেখা গেছে।”

তিনি বলেন, ১৬ দিনের কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো সারা বছরই স্মরণ করিয়ে দেওয়া—নারীর প্রতি সহিংসতার সমস্যা এখনো মীমাংসিত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক প্রচারণা, পদযাত্রা, আলোচনাসভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এর প্রচার, কুইক রেসপন্স টিমের (০১৭১৩৬৫৯৫৭৩, ০১৭১৩৬৫৯৫৭৪) তথ্য প্রচার, স্থানীয় পর্যায়ে উঠান বৈঠক, আইনি সহায়তা ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে একযোগে শপথ পাঠও আয়োজন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিজামূল কবীর উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements