Skip to content

২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীর পেশাগত ঝুঁকি : প্রসঙ্গ শিক্ষকতা

ছবিঃ সংগৃহীত

নারীর জীবন কোনোদিনই প্রতিবন্ধকতাহীন ছিল না! ব্যক্তিজীবনে নারীরা যেমন বাধার সম্মুখীন হন, তেমনি কর্মজীবনে রয়েছে ফাঁদ! একজন নারীর সমাজে বেড়ে ওঠাটা সহজ নয়! পরিবার-পরিজন চায়, কোনোরকম শিক্ষার গণ্ডি পার হোক। ভুলেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ না করুক। নারীরা যখন এ সব বাধা অতিক্রম করে জীবনে নিজেকে যোগ্য এবং প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে, তখন দেখা দেয় আরেক সমস্যা। তারা সামনের দিকে এগুতে হিমশিম খায়।

নারীর জন্য এ সমাজ যেন চোরাবালি! একটু অসাবধানতা তার জন্য ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ! বেশিরভাগ নারী সময়, সুযোগ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধে শিক্ষকতাকে মহান পেশা মনে করেন। এ জন্য এই পেশা বেছে নেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানেও নারীরা শতভাগ নিরাপদ নন। একজন নারী শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত নিজেকে যোগ্য করে তুলতে একের পর এক কঠিন ধাপ পার করেন। শিক্ষকতা পেশা বেছে নিতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য রয়েছে বিশেষ ট্রেনিং। যার মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।

সবকিছু ছাপিয়ে একজন নারী শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেন। সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান রক্ষার্থে অনেক পরিবার নারীর চাকরি করাকে সমর্থন করে না। তাই নারীরা কম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে গ্রহণ করেন। সরকারি স্কুল-কলেজগুলো শিক্ষকতা পেশায় নারীকে বিশেষ সুযোগ দিলেও বেসরকারি সেক্টরে নারীর জন্য এখানে রয়েছে ভয়াবহ ফাঁদ! শিক্ষকতা যতই মহান পেশা হোক না কেন, বর্তমানে নারীদের জন্য খুব সুখকর নয়। সমাজে যদিও নারীর শিক্ষকতা পেশাটাকে আজও সম্মানের চোখে দেখা হয়, তবু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোয় যেন নারীর শিক্ষকতার জন্য মরণ ফাঁদ!

আবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ-প্রক্রিয়া চলে পুরুষের জন্য এক নিয়মে। আবার নারীর জন্য অন্য নিয়মে। নারী প্রার্থীকে ধরিয়ে দেওয়া হয় লম্বা তালিকা কিন্তু পুরুষের জন্য সেখানে অনেকটা শিথিলতা থাকে। নারী প্রার্থী হলে যোগ্যতার চেয়ে বরং অন্যান্য বিষয়ের প্রতি সিলেকশন বোর্ডের বেশি আগ্রহ দেখা যায়। এগুলো সমাজের বেশিরভাগ মানুষেরই জানার কথা।

সমাজের ওপেন সিক্রেট বলে কিছু ব্যাপার রয়ে গেছে! বিয়েতে যৌতুক যেমন, তেমনি শিক্ষাখাতেও নারীদের জন্য চোরাবালির ঘাপটি মরে বসে থাকে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হলেও ফাঁদে ফেলে অনেক নারীকেই কব্জা করার চেষ্টা করে কিছু অসৎ মানুষ। বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও আজ নারীর জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়নি। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী সহকর্মী থাকলে সেখানে পুরুষের একটু তর্জন গর্জন বেশি দেখা যায়। বিভাগের বা কলেজের প্রধানের কু-প্রবৃত্তির রোষে পড়ে অনেকেই যৌন-হয়রানির শিকার হন। কিন্তু চাকরি, সম্মান বাঁচানোর ভয়ে মুখ বুজে সেগুলো সহ্য করেন। তবে কেউ কেউ এ সব প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের কুবাসনার শিকার হন নারীরা। বিভিন্ন ছলনা করে ছবি তোলা, ক্লাস শেষে বসিয়ে রেখে আকারে ইঙ্গিতে বাজে প্রস্তাব, সবই চলে আজকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

শিক্ষকতা পেশা সম্মানের এটা সমাজ স্বীকৃত কিন্তু বর্তমানে নারীদের জন্য সেটাও হুমকিস্বরূপ। সব জায়গায় যে একই ঘটনা ঘটে, এমনটা নয়। তবে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই নারীর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। নারীকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে লালসা চরিতার্থ করার চেষ্টায় মগ্ন থাকে এক ধরনের হায়েনারা। এছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষকদের কোর্স কম দেওয়া, পারিশ্রমিকের নামে প্রহসন; সবই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নারীর জন্য তাই বর্তমানে শিক্ষাখাতেও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

আগের দিনে বাবা-মায়ের পরই ছিল শিক্ষাগুরুর অবস্থান। কিন্তু বর্তমান সমাজব্যবস্থায় মানবিক, চারিত্রিক স্খলনের কারণে অনেকেই অসৎভাবে প্রভাব বিস্তার করে নারীর পথকে বাধার সম্মুখীন করতে চায়।

অনেকে মনে করেন, শিক্ষাখাত হয়তো সুবিধাজনক কিন্তু এটাই নারীদের জানা প্রয়োজন যে, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নারীর জন্য নিরাপদ নয়! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই অনিয়ম, অত্যাচারকে রুখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নারীদেরও সচেতন হতে হবে। বাধার সম্মুখীন হলে আইনের সহায়তা নিতে হবে। সচেতনতাই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার উত্তম পন্থা।

অনন্যা/জেএজে