Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আফগান নারীদের বন্দিজীবন, বাড়ছে উগ্রতা

বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বিরাজ করছে। নারীদের ঘরে অবরুদ্ধ করতে গোটা বিশ্বেই চলছে পুরুষতন্ত্রের নীলনকশা। সেই আগুনে ঘি ঢালছে মৌলবাদীরা। মুসলমান প্রধান রাষ্ট্রগুলোতে বীজ বপন করে চলেছে তারা। আর এর ফলে ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোতে নারীদের অবরুদ্ধ করা হচ্ছে ধর্মের আবরণে। যদিও তারা ধর্মকে পুরুষতন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সেইসঙ্গে ধর্মের অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নারীদের সঙ্গে করা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার নিষ্ঠুর আচরণ।

ইরান, আফগানিস্তানে নারীরা বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক পরিবেশ পাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কর্মস্থলে প্রবেশে নারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা, পড়াশোনা থেকে শুরু করে সর্বস্তরে নারীদের ওপর নিপীড়ন চালনো হচ্ছে। ইরানে মায়সা আমিনির হত্যার বিরুদ্ধে দেশটির নৈতিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হিজাব সঠিকভাবে না পরায় ইরানের নৈতিকতা পুলিশ আমিনিকে পুলিশে হেফাজতে নেয়। সেখানেই এই নারীর মৃত্যু ঘটে। এর প্রতিবাদে উত্তাল হয় গোটা দেশের নারীরা। তাদের জীবনযাপনের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার লড়াই করছে তারা। এরইমধ্যে পার্শ্ববর্তী আফগানিস্তানের নারীরাও তালেবানদের দ্বারা সমানভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের জীবনযাপনের ওপর তালেবানদের অত্যাচারের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। দেশটির ক্ষমতা তালেবানদের অধিকারে যাওয়ার পর থেকে নারীদের জীবনযাপনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তাদের সরকার।

তালেবানরা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের প্রতি তাদের আগ্রাসী মনোভাবের সাক্ষী পুরো বিশ্বই লক্ষ করেছে। তালেবানেরা ক্ষমতায় আসার আগে যেই নারীরা স্কুল, কলেজে পড়তো তার বেশিরভাগই আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারেনি। তাদের জীবনযাপন কেমন হবে, নারীরা কতটুকু শিক্ষিত হবেন এবং কোন বিষয়ের ওপর নারী পাঠ গ্রহণ করতে পারবে সববিষয়ে তালেবানরা নারীদের অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। কট্টরপন্থী এই সংগঠনটি সঠিক ইসলামি পরিবেশ পেলে তবেই একটু বড় মেয়েদের স্কুলে ফেরার কথা বললেও তাদের আজও সে পরিবেশ দিতে পারেনি। তালেবানদের রক্ষণশীল মনোভাব এই দেশের নারীদের জীবনযাত্রার পথে চরম বাধা । তাদের নিয়মে কৃষি, ভেটেনারি, অর্থনীতি, প্রকৌশল, সাংবাদিকতা মেয়েরা পড়তে পারবে না।

কট্টরপন্থী তালেবানদের এই সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বের নারীদের জন্যই হুমকি স্বরূপ। মৌলবাদীদের উসকে দিতে ইরান, আফগানিস্তানের এমন কর্মকাণ্ড ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে! তাই বিশ্বের এরূপ অস্থিতিশীল পরিস্থিতে দেশকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে হবে। নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সে ব্যাপারে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়াতে হবে। নারীদের অধিকার রক্ষায় মৌলবাদী চিন্তাভাবনাকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। কঠোর আইনের মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ