রক্তচাপ ও অনিদ্রার প্রাকৃতিক সমাধান ‘ক্যামোমাইল’

রাতে ঘুম আসে না? অথবা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাবছেন প্রাকৃতিক কিছু ব্যবহার করবেন? ক্যামোমাইল হতে পারে আপনার জন্য সহজ এবং নিরাপদ এক উপায়। প্রাচীন গ্রিক যুগ থেকেই ক্যামোমাইল ভেষজ পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়। তখন থেকেই মানুষ জানত। এই চায়ে আছে অ্যাপিজেনিন নামের উপাদান। এই উপাদানগুলো স্নায়ুকে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ঘুম আনতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিছুটা হালকা ঘুমের ওষুধের মতোই কাজ করে ক্যামোমাইল চা। সন্ধ্যায় এক কাপ গরম ক্যামোমাইল চা অনেকেরই ঘুমের সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে।ক্যামোমাইল শুধুমাত্র ঘুমের জন্য নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে। এর শান্তিদায়ক প্রভাব স্নায়ু ও হৃদ্যন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
ডেইজি ফুলের মতো দেখতে এই ভেষজে থাকে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম দুইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল।

পটাশিয়াম
– স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে
– হৃদ্স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে
– কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়
– হাড় মজবুত করে
– আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বেশি লবণ খেলে পটাশিয়াম খুব প্রয়োজনীয়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। যদিও এক কাপ ক্যামোমাইল চায়ে পটাশিয়ামের পরিমাণ কম (প্রায় ২১ মিলিগ্রাম), তবুও এটি দৈনিক খাবারের একটি ছোট সহায়ক উৎস হিসেবে কাজ করে।
পটাশিয়াম পাওয়ার আরও ভালো উৎস কলা, মিষ্টি আলু, শাকপাতা এবং অ্যাভোকাডো। পুরুষদের দৈনিক ৩,৪০০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের ২,৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রয়োজন।
ক্যালসিয়াম শুধু হাড় ও দাঁত নয়। হৃদ্যন্ত্র, পেশি ও স্নায়ুর সঠিক কার্যক্রমের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। ক্যামোমাইলে রয়েছে এই প্রয়োজনীয় উপাদানও।
যদি ঘুমের সমস্যা বা রক্তচাপ নিয়ে চিন্তায় থাকেন ক্যামোমাইল চা হয়ে উঠতে পারে আপনার দৈনন্দিন সঙ্গী। রাসায়নিক ওষুধের পরিবর্তে ভেষজে নির্ভর করার অভ্যাস শরীরের ওপর বাড়তি চাপও তৈরি করে না।রাতের শান্ত সময়ে এক কাপ ক্যামোমাইল মনও শান্ত, শরীরও স্বস্তিতে।



