জীবনধারার সঙ্গে বদলাতে হবে স্থাপত্যের ভাষা

জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ ও মানুষের জীবনধারার পরিবর্তন—এই তিনের প্রভাবেই স্থাপত্যের ভাষায় আসছে নতুন সংজ্ঞা। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী স্থাপত্যকেও হতে হবে আরও অভিযোজনযোগ্য ও মানবকেন্দ্রিক। রাজধানীর এক হোটেলে শনিবার অনুষ্ঠিত ‘সিরামিক বাংলাদেশ ম্যাগাজিন’-এর সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এই মত প্রকাশ করেন।
‘বিটুইন ইরোশন অ্যান্ড ইমার্জেন্সি’ শিরোনামে উপস্থাপনায় তিনি বলেন, স্থাপত্য শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়; এটি সংস্কৃতি, সমাজ ও মানবজীবনের গভীরে প্রোথিত এক জীবন্ত শিল্প। একজন স্থপতির দায়িত্ব শুধু নির্মাণ নয়—বরং এমন নকশা তৈরি করা, যা মানুষ, পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হয়চরাঞ্চলের
মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত এই স্থপতি বলেন, প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টেকসই আবাসন নির্মাণের জন্য নতুন স্থাপত্য ভাবনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পুনর্বাসনযোগ্য ঘর তৈরির উদ্দেশ্যে তাঁর দল ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। এসব প্রকল্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে তাদের বাস্তব প্রয়োজন ও জীবনযাপন অনুযায়ী নকশা তৈরি করা হচ্ছে।
“আমাদের লক্ষ্য কেবল ভবন নির্মাণ নয়,” বলেন মেরিনা তাবাসসুম, “বরং এমন এক স্থাপত্যচর্চা গড়ে তোলা, যা মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে একটি স্থায়ী ভারসাম্য সৃষ্টি করে।”
স্বাগত বক্তব্যে সিরামিক বাংলাদেশ ম্যাগাজিনের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক স্থপতি জালাল বলেন, বাংলাদেশের স্থাপত্য আজ বিশ্বে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।
সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি ও মুন্নু সিরামিকের ভাইস চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, দেশের স্থাপত্য ও সিরামিক শিল্প একে অপরের পরিপূরক। শিল্প, শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়ে এই খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক জয়নাব ফারুকী আলী, স্থপতি নাহাস আহমেদ খলিল ও অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন স্থপতি মৌসুমী আহমেদ।



