বিয়ে, যমজ সন্তান ও সংসার সামলে শারমীন এখন জজ

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৪তম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন খাতুন।
২০১৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ২০২১ সালে যমজ সন্তানের মা হন তিনি। সংসার, স্বামী ও দুই সন্তানকে সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছেন তিনি। নানা দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্যেও অধ্যবসায় ধরে রেখে অবশেষে অর্জন করেছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে ২০০ প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন।
তবে শারমিনের গল্পটি যেন একটু আলাদা। তিনি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির একজন স্থায়ী বাসিন্দা। তার পথটা শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি, বই আর পড়ার টেবিলের গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংসার, মাতৃত্ব এবং নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার এক দীর্ঘ লড়াই। ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর ২০১৬ সালে বিয়ে হয় শারমিনের। এরপর ২০২১ সালে তিনি জন্ম দেন যমজ সন্তানের। একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে দুই সন্তানকে সামলানো-সবকিছুর মধ্যেই নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটাকে ধরে রাখেন তিনি।
বিজেএসের প্রস্তুতির শুরুতেও সন্তান ও সংসার সামলে পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় বের করা তার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু মনের জেদ তাকে থামতে দেয়নি। এমনকি হাসপাতালে অসুস্থ সন্তানকে রেখে বিজেএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।
শারমিন বলেন, আমার এই দীর্ঘ পথচলায় আমার স্বামী আশাদুল হক ছায়াসঙ্গী হিসেবে সবসময় পাশে থেকেছেন। উচ্চশিক্ষার প্রতি আমার আগ্রহকে সবসময়ই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষজন উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার এই স্বপ্ন পূরণের পথে শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারকেও পাশে পেয়েছি। অনার্স-মাস্টার্সের গণ্ডি পেরিয়ে অবশেষে বসলাম বিজেএস পরীক্ষায়। শুরুতে বাচ্চা ও সংসার সামলে বিজেএসের প্রস্তুতির জন্য সময় বের করতে পারিনি। কিন্তু মনের জেদটা ছিল তীব্র। অবশেষে ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম।
আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো ফল করছে, এবার আরও ভালো করেছে। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাদের গাইডলাইন দেওয়া ও ভিত্তি শক্ত করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।



