২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, রাতভর নির্যাতনে আহত ছাত্রদল নেতা

IMG_5401

পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের হাতে ওয়াকিটকিও ছিল। পরে তাকে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পূর্ব পাশে নির্জন এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফারুককে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফারুককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাত ১টার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম বলেন, মারধরের ঘটনা তিনি জানেন। তবে এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্ত মাসুদ রানাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। ঘটনার দিন তিনি পারিবারিক কাজে চট্টগ্রামে ছিলেন বলেও জানান। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisements

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ডিবি পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisements