বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
নারী

নারী বিশ্বকাপে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত, বাড়ছে দল

Untitled-1

মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের রাতটা যেনো ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল। ২ নভেম্বর, হাজারো দর্শকের উল্লাসে ভারত প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে। সেই সাফল্যের রেশ এখনও ছড়িয়ে আছে ক্রিকেট দুনিয়ায়। দর্শক রেকর্ড থেকে সম্প্রচার সংখ্যা সবদিক থেকেই এবারের টুর্নামেন্ট ভেঙেছে অতীতের সব পরিসংখ্যান। আর এই সাফল্যের জোয়ারেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষণা দিয়েছে এখন থেকে নারী বিশ্বকাপ হবে আরও বড়, আরও পরিসরপূর্ণ।

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকের শেষ দিনে নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপে যেমন খেলবে ৮ দল, ২০২৯ সালের আসরে অংশ নেবে ১০টি দেশ। ম্যাচও বাড়ছে—৩১ থেকে বেড়ে ৪৮টি। আইসিসির ভাষায়, “নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের অসাধারণ প্রতিক্রিয়া ও দর্শক আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে—আগামী আয়োজনগুলো আরও বৃহৎ আকারে করার।”

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত এবারের টুর্নামেন্ট ছিল হাইব্রিড মডেলে। ফাইনালে ভারত মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। হারমানপ্রীত কৌরের দল ৫২ রানে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ ছুঁয়ে ফেলে। পুরো ভারত যেন আনন্দে ভেসে যায় সেই রাতে।

দর্শক ও প্রচারের দিক থেকেও রেকর্ড একের পর এক। আইসিসির তথ্যমতে, ডিজিটাল মাধ্যমে খেলা দেখেছেন ৪৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ, আর মাঠে গ্যালারি ভরেছিল প্রায় তিন লাখ দর্শকে—নারী ক্রিকেটে যা একেবারেই নজিরবিহীন। শুধু ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখেছেন ২ কোটি ১০ লাখ দর্শক। কানেক্টেড টিভি প্ল্যাটফর্মে দেখা মানুষের সংখ্যা ৯ কোটি ২০ লাখ—যা ছুঁয়ে ফেলেছে পুরুষদের ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের রেকর্ড।

Advertisements

আইসিসির ভাষায়, “ভারতে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন এক নতুন উচ্চতায়। ডিজিটাল ও সম্প্রচার মিলিয়ে দর্শকসংখ্যা প্রথমবারের মতো ৫০ কোটির দ্বারপ্রান্তে।”

পরিবর্তন আসছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আসরে খেলবে ১২ দল যেখানে ২০২৪ সালে অংশ নিয়েছিল ১০টি।

নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দল খেলেছিল ১৯৯৭ সালে—তখন অংশ নিয়েছিল ১১ দেশ, আয়োজক ছিল ভারতই। সেই আসরে অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল শিরোপা, হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮ দলের সীমায় ছিল টুর্নামেন্টটি।

২০২৯ সাল থেকে সেই বন্ধন ছিন্ন হচ্ছে। নারী ক্রিকেট এখন প্রবেশ করছে এক নতুন যুগে—বৃহত্তর মঞ্চে, আরও বৈশ্বিক ছোঁয়ায়, আরও অনেক স্বপ্ন নিয়ে।

Advertisements