বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
নারী

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শক্তিতে রূপ দিলেন লাইজু

WhatsApp Image 2025-11-07 at 2.30.57 AM

জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ পা নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছিল লাইজু। কেউ হয়তো ভাবতে পারত, এমন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জীবনের চলার পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু লাইজুর গল্প সেটা নয়। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই নারীর জীবন এক অসাধারণ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।

শৈশব থেকেই অবহেলা আর দূর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি হয়ে বড় হতে হয়েছে তাকে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে জীবনের এক কঠিন সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিয়ে হয় একই এলাকার সাইকেল মেকার কোনা মিয়ার সঙ্গে। স্বামীর আগের স্ত্রী রেখে যাওয়া চার শিশুর দায়িত্বও নিতে হয়েছিল লাইজুকে। প্রতিবন্ধী অবস্থায় চার সন্তান লালন-পালন, সংসার চালানো—সবই যেন কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু লাইজু হাল ছাড়েননি। ৯০-এর দশকের শেষ ভাগে জয়পুরহাটের সীমান্তবর্তী বাগজানা এলাকায় ছোট্ট ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে সংসার শুরু হয়। স্বামী সাইকেল মেরামতের কাজ করলেও সংসারের খরচ চালানো যথেষ্ট ছিল না। এই পরিস্থিতিতেও লাইজু হাঁটাচলা করতে না পারার কষ্ট উপেক্ষা করে রিক্সা ও ভ্যানে করে লবণ, চিনি, কসমেটিকস, শাড়ী এবং ছিট কাপড় বিক্রি করে জীবনযাত্রা চালাতেন।

সময়ের সঙ্গে গর্ভে আসে দুটি সন্তান। কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও তিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও যত্নে বড় করেছেন, তাদের সবাইকে বিয়ে দিয়েছেন। ২০১৬ সালে স্বামী কোনা মিয়ার প্রয়াণে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেও লাইজু দমে যাননি। স্বামীর সামান্য সঞ্চিত অর্থ এবং নিজের ব্যবসার টাকায় কেনা কয়েক শতক জমি সন্তানদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন।

Advertisements

বয়স হলেও লাইজু এখনও বসে থাকেন না। আটাপাড়া বেলী ব্রীজের নীচে ছোট্ট একটি টঙ্গের দোকান চালিয়ে তিনি ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একজন তার জন্য হুইলচেয়ার যোগান দিয়েছেন। বর্তমানে সতীনের ছেলের ঘরেই বসবাস করছেন, এবং সন্তানদের পরিবারে তাকে মায়ের মতো আদর করা হয়।

Advertisements