বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্য

সঠিকভাবে ভিটামিন ডি পেতে রোদে থাকবেন যেভাবে

Main-vitamin

শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি-র ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাড় ও দাঁত মজবুত রাখা, ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করা, পেশি শক্ত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই ভিটামিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সূর্যের আলো ত্বকে লাগলেই শরীরে জমে থাকা একটি কোলেস্টেরল ভিটামিন ডিতে রূপান্তর হয়। পরে তা লিভার ও কিডনিতে গিয়ে সক্রিয় হয়ে শরীরে কাজ করে। এজন্যই ভিটামিন ডিকে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি বেশ সাধারণ একটি সমস্যা। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি রিকেটস রোগ সৃষ্টি করতে পারে। আর প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওম্যালাসিয়া, হৃদরোগের ঝুঁকি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ক্ষেত্রেও কম ভিটামিন ডি সুস্থ হতে বেশি সময় লাগায়।

ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময়ের রোদ সবচেয়ে উপকারী। এমন সময় যখন নিজের ছায়া নিজের তুলনায় ছোট দেখায় অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকা যথেষ্ট। ত্বকের রঙও ভিটামিন ডি শোষণে ভূমিকা রাখে। মেলানিন নামক রঞ্জকের কারণে গাঢ় রঙের ত্বকে শোষণের হার কম। তাই তাঁদের একটু বেশি সময় রোদে থাকতে হয়। সাধারণত শ্যামবর্ণ বা গাঢ় ত্বকের ক্ষেত্রে ৩০ মিনিট এবং ফর্সা ত্বকের ক্ষেত্রে ১০–২০ মিনিট রোদই যথেষ্ট। শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সময় আরও কিছুটা বাড়াতে হয়।

রোদে থাকার সময় পোশাক বেশি ঢেকে রাখলে বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ভিটামিন ডি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই মাঝেমধ্যে সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে বের হওয়া ভালো এবং হাত, পা ও শরীরের কিছু অংশ যেন খোলা থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই মনে করেন সপ্তাহে কয়েক দিন বেশি সময় রোদে থাকলে পুরো বছরের ভিটামিন ডি মজুদ হয়ে যাবে। বাস্তবে শরীর কিছু ভিটামিন ডি চর্বি কোষে সংরক্ষণ করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন মেটাতে পারে না। তাই নিয়মিত রোদে থাকা এবং খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন ডি গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisements

স্বল্প সময় রোদে থাকলে ভিটামিন ডি যেমন বাড়ে, তেমনি মনও ভালো থাকে, কারণ সূর্যের আলো মুড ভালো রাখার হরমোন উৎপন্ন করে। তারপরও যদি শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। নিয়মিত, নির্দিষ্ট সময়ে ও পরিমিত রোদ। এই তিনেই ভিটামিন ডি পাওয়ার সহজ সমাধান। সূর্য তো প্রতিদিনই আছে, শুধু অভ্যাসটা গড়ে তুললেই হবে।

Advertisements