ফ্যাশনের মঞ্চে পরিবেশ দূষণের বার্তা

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজন করা হয় বর্ণিল অনুষ্ঠান ‘হেয়ার অ্যান্ড বিউটি কার্নিভ্যাল ২০২৫’। আয়োজনটি করে বিউটি সার্ভিস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএসওএবি)। সারাদেশ থেকে আসা রূপবিশেষজ্ঞ, মডেল ও ফ্যাশনপ্রেমীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানটি।
কার্নিভ্যালের শেষ ভাগে ছিল দুইটি বিশেষ ফ্যাশন শো। একটিতে মঞ্চে দেখা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রূপবিশেষজ্ঞদের হাতে সাজানো বর–কনের লুক। আর অন্যটিতে পরিবেশদূষণ নিয়ে তৈরি হয় সচেতনতার এক নাটকীয় প্রদর্শনী।
প্রথম ফ্যাশন শোয়ের মঞ্চ যেন রূপকথার বিয়ের আয়োজন। মডেলরা যুগল হিসেবে হাঁটেন রানওয়েতে, কেউ সাদা–সোনালি লেহেঙ্গায়, কেউ আবার ঐতিহ্যবাহী লাল–সোনালি সারায় সেজে। প্রতিটি সাজে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের বিয়ের বহুমাত্রিক সৌন্দর্য।

রূপবিশেষজ্ঞরা ছিলেন প্রতিটি মডেলের দায়িত্বে। কেউ বরের লুক তৈরি করেছেন ট্রিম দাড়ি ও বেজ মেকআপে। কেউবা কনেকে সাজিয়েছেন স্মোকি আই আর খোঁপা চুলে। কোথাও হালকা মেকআপে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া। কোথাও ভারী সাজে রাজকীয় আমেজ।
পরিবেশ নিয়ে ফ্যাশনের ভাবনা
দ্বিতীয় ফ্যাশন শো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। এখানে ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্যের প্রদর্শনী নয়। বরং পৃথিবী ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার বার্তা।
রানওয়ে সাজানো হয়েছিল নাটকীয়ভাবে। শুরুতে রাজা-রানির সাজে দুই মডেল আসেন। ঠিক যেন পৃথিবীর আদিম সৌন্দর্যের প্রতীক। এরপর একের পর এক মডেল হেঁটে দেখান প্রকৃতির নানা রূপ। নীল পোশাকে কেউ সমুদ্র ও নদীর প্রতিনিধি, সবুজ সাজে কেউ সবুজ পৃথিবীর প্রতীক।
হঠাৎ এক মডেল কালো পোশাকে উপস্থিত হন, যেন দূষণ ও ধ্বংসের ছায়া। তার প্রবেশের পর ধীরে ধীরে রঙ হারাতে থাকে পৃথিবীর মঞ্চ। দর্শকের মনে জাগে এক প্রশ্ন, “আমরা কি সত্যিই আমাদের পৃথিবীকে হারিয়ে ফেলছি?”

এই থিমেটিক ফ্যাশন কিউটির চুলের সাজ ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পুরো সেগমেন্টটির হেয়ার ও মেকআপ পরিচালনা করেন হেয়ার এক্সপার্ট কাজী কামরুল ইসলাম। মডেলদের হেয়ারস্টাইলের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেন প্রকৃতি, দূষণ ও পুনর্জীবনের ভিজ্যুয়াল প্রতীক।
এই আয়োজন প্রমাণ করে, ফ্যাশন কেবল রঙ-রূপের প্রদর্শনী নয়। এটি হতে পারে সমাজ ও পরিবেশের প্রতি সচেতনতার এক শক্তিশালী মাধ্যম। রানওয়েতে মডেলদের চোখের ভাষা, সাজের রঙ আর নাটকীয় উপস্থাপন যেন একটাই কথা বলছিল, “পৃথিবীকে ভালোবাসুন, তার সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখুন।”



