পরিবারের সহায়তা আর নিজের দৃঢ়তায় নিশি জোয়ার্দারের ক্যা/ন্সার জয়

রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাসিন্দা নিশি জোয়ার্দার, ২০১৭ সালে প্রথম জানতে পারেন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত তিনি। প্রায় এক বছরের চিকিৎসা শেষে বলা যায়, তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। আর এই পুরো সময়টাতেই সঙ্গে ছিলেন পরিবারের কেউ না কেউ। তাঁদের সহযোগিতায় তাই এ কঠিন যাত্রাও অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল।
স্তনে সিস্টের মতো ছোট কিছু একটা বুঝতে পারে, তখন সন্দেহ হলে তার বোনের ছেলের সঙ্গে কথা বলেন নিশি জোয়ার্দার। সে আমেরিকার চিকিৎসক। একজন ডাক্তারের কথা বললে তাঁকে দেখান এবং ডাক্তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন। রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পড়ে।
ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর কোথায় চিকিৎসা করাবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। পরিবারের সবার মতামত নিয়ে দেশের বাইরেই চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নেন। নিশি বলেন, ‘যখন জানতে পারি আমি ক্যান্সার আক্রান্ত, তখন ভেঙে পড়িনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের এ ব্যাপারে জানাই। আমার যে আত্মীয়স্বজন বিদেশে আছেন, তাদের সঙ্গেও কথা বললাম। কোথায় চিকিৎসা করালে ভালো হবে, সেটি নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম। প্রথমে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু কেউ কেউ বলল, ভারতে রোগীর চাপ বেশি। চিকিৎসা দেরিতে শুরু হতে পারে। যেহেতু দ্রুত চিকিৎসা করানো জরুরি, তাই সিঙ্গাপুরে যাওয়াই ভালো। তাছাড়া সেখানে পরিচিত মানুষজন ছিল। তাই সেখানেই যাই।’
দেশের বাইরে চিকিৎসা নিলেও পাশে পেয়েছেন পরিবারের সবাইকে। নিশি বলেন, ‘১০-১২ দিনের মধ্যেই সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিই। তবে ঝামেলা বাধে আমার সঙ্গে কে যাবে তা নিয়ে। পরে আমার ছেলে ও আমার বোনের ছেলে, দুজনেই সঙ্গে যেতে রাজি হয়। ওদের দুজনকে নিয়ে আমি প্রথমবার সিঙ্গাপুর যাই। সেখানে আমার অপারেশন হয়।’
অপারেশনের পর কেমোথেরাপি শুরু হয় তার। কেমোথেরাপি নেয়া হয় দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে। নিশি জোয়ার্দার বলেন, ‘অপারেশনের পর দেশে চলে আসি। এখানে এসে কেমোথেরাপিগুলো দিই। এরপর আবার সিঙ্গাপুরে গিয়ে রেডিওথেরাপি দেয়া হয়। তখন আমার সেখানে দুই মাস থাকতে হয়। সে সময় আমার সঙ্গে ছিল আমার বোন।’
চিকিৎসার সময় ছেলে সবসময় সশরীরে পাশে না থাকলেও মানসিকভাবে সব ধরনের সহায়তা করেছেন বলে জানান নিশি জোয়ার্দার। তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলের কথা না বললেই নয়। সিঙ্গাপুরে আমার লম্বা সময় থাকতে হয়েছে। ছেলে যেহেতু চাকরি করত, তার পক্ষে আমার সঙ্গে এত লম্বা সময় থাকা সম্ভব ছিল না। তবে একদিন হঠাৎ দেখি, আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য সে সিঙ্গাপুরে চলে এসেছে! সেই দিনটি আমার জন্য অনেক আনন্দের ছিল।’
এক বছরের ক্যান্সার চিকিৎসায় আর্থিক ও মানসিক সবদিক থেকেই সাহায্য করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তিনি বলেন, ‘এখনো তো পুরোপুরি সুস্থ বলা যায় না। কারণ ক্যান্সার আবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চেকআপের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। তবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এ লড়াইয়ে আমাকে একা থাকতে হয়নি। চিকিৎসার পুরো সময়টিতে পরিবারের কেউ না কেউ সশরীরে আমার পাশে ছিল, যে কারণে এ যাত্রা আমার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।’



