বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

সড়ক দু/র্ঘটনায় প্রা/ণহানির এক চতুর্থাংশই নারী ও শিশু

WhatsApp Image 2025-10-05 at 12.43.31_43f4bed0

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চার হাজার ৯৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৭৫ জন। অর্থাৎ ২৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী ও শিশু নিহত।

গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সেপ্টেম্বরে সারাদেশে ৪৪৬ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪১৭ জন, যাদের মধ্যে ৬৩ জন নারী ও ৪৭ জন শিশু এবং ৬৮২ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩০ হাজার ৭৭৫ দুর্ঘটনা হয়েছে, যেখানে নিহত হয়েছেন ৩৩ হাজার ২৫৬ মানুষ। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৫০ হাজার ৮৭৭ জন।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে পাঁচ হাজার ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে গত ৯ মাসে। এতে মারা গেছেন চার হাজার ৯৪৭ জন। তাদের মধ্যে নারী রয়েছে ৬২৭ জন ও ৫৮৯ শিশু। যা মোট মৃত্যুর যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৬২১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬০৮ জন। তাদের মধ্যে নারী ৭২ ও শিশু ৮৪। ফেব্রুয়ারিতে ৫৯৬ দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭৮ জনের মধ্যে নারী ৭৩ ও শিশু ৮৭। মার্চে ৫৮৭ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয় ৬০৪ জনের। তাদের মধ্যে নারী ৮৯ ও শিশু ৯৭। এপ্রিলে ৫৯৩ দুর্ঘটনায় মারা যান ৫৮৮ জন। তাদের মধ্যে নারী ৮৬ ও শিশু ৭৮। মে মাসে ৬০২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জন নিহত হন। এ মাসে নারী ও শিশু নিহতের তথ্য দেয়নি ফাউন্ডেশন।

৬৮৯ দুর্ঘটনা হয় জুনে, যেখানে নিহত হন ৬৯৬ জন। তাদের মধ্যে নারী ১০৪ ও শিশু ১০৯। জুলাইয়ে ৪৪৩ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে ৪১৮ জনের, যার মধ্যে ৭২ নারী ও শিশু ৫৩। আগস্টে ৪৫১ দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪২৮ জন। তাদের মধ্যে নারী ৬৮ ও শিশু ৩৪।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন জানুয়ারিতে এক হাজার ১০০, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৩২৭, মার্চে এক হাজার ২৩১, এপ্রিলে এক হাজার ১২৪, মে মাসে এক হাজার ৯৭, জুনে এক হাজার ৮৬৭, জুলাইয়ে ৮৫৬, আগস্টে ৭৯১ ও সেপ্টেম্বরে ৬৮২ জন।

এবার ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১১ দিনে (২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল) ২৫৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ৪১ ও শিশু ৫৯। আহত হন ৫৫৩ জন। ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে (৩ থেকে ১৪ জুন) ৩৪৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ৪৭ ও শিশু ৬৩। আহত হন এক হাজার ৬১০ জন।

যানবাহনভিত্তিক চিত্র


পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী এক হাজার ৫৬৫ (২৫.৫৭%), বাসের যাত্রী ২৮৩ (৫.৭২%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৩১৫ (৬.৩৭%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১৫৫ (৩.১৩%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৮৪৫ (১৭.০৮%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্রা-টমটম) ২০১ (৪.০৬%) এবং বাইসাইকেল-রিকশা আরোহী ৮৪ (১.৭০%) নিহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, যা ৫৩৯, ব্যবসায়ী ১৮৮, শ্রমিক ১৫৪, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০০, শিক্ষক ৬৭, ওষুধ ও বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ১৪১, রাজনীতিবিদ ৭২, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৩, ইমাম ও মুয়াজ্জিন ২৬, সাংবাদিক ২৪, পুলিশ সদস্য ১৯, প্রতিবন্ধী ১৬, চিকিৎসক ১০, আইনজীবী ছয়, প্রকৌশলী পাঁচ, সেনাসদস্য চার, বিজিবি সদস্য তিন, আনসার সদস্য দুই, বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুই, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ৯, সাংস্কৃতিক কর্মী দুই, কারারক্ষী এক, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এক ও অন্যান্য চারজন আছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছে। তা হলো– ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবাদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে না জানা ইত্যাদি।

তাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে-

* ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন পরিহার করতে হবে।

* বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, তাই গাড়ির যে স্বাভাবিক গতি তা খেয়াল রাখতে হবে।

* চালকদের দক্ষ হতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে ড্রাইভারদের। তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।

* ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে জনসাধারণকে।

* দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা চিহ্ন বসাতে হবে।

* জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি – স্কুল, কলেজ ও গণমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।