১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

অগোছালো ঘর, অগোছালো মন

8fa7d9d7eaa6fd5725cefb6e7bfa602a

‘ঘর যেমন, মনও তেমন’ এই কথাটা হেলাফেলায় বলার নয়। এলোমেলো ঘর শুধু চোখেই লাগে না। মনের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। বাড়তি জিনিসপত্র সরিয়ে দিলে ঘর যেমন গুছিয়ে ওঠে, তেমনি মনও হয় হালকা ও প্রশান্ত।

আমাদের সবার ঘরেই এমন কিছু জিনিস থাকে যেগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ সেই জিনিসগুলো জায়গা দখল করে বসে আছে। পুরোনো জামাকাপড়, শিশুর খেলনা, নানা উপলক্ষে পাওয়া উপহার, ফাঁকা বোতল কিংবা রান্নাঘরের অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের বাক্স। এসব একসময় বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। প্রথমে তেমন কিছু মনে না হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো জমে গিয়ে চাপ, অস্থিরতা আর ক্লান্তি বাড়ায়।

গবেষণা বলছে, এলোমেলো ঘরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, কাজের গতি কমে যায়। অনেকেই আবার অতিথি ডাকতে দ্বিধা বোধ করেন। অর্থাৎ ঘর গোছানো মানেই শুধু সৌন্দর্য নয়। মানসিক সুস্থতারও বড় একটি অংশ।

কেন জমে যায় এত জিনিস?

স্মৃতির টান – পুরোনো খাতা, জামা বা উপহার ফেলে দিতে মন চায় না।

‘একদিন লাগতে পারে’ ভাবনা – ভাঙা ইলেকট্রনিকস বা খালি বোতলও ফেলে দেওয়া হয় না।

শুরু করার ভয় – কোথা থেকে শুরু করব, সেই চিন্তায় অনেকে হাতই দেন না।

মনোযোগের অভাব – উদ্বেগ বা এডিএইচডির মতো কারণে গুছানো হয়ে ওঠে কঠিন।

যেভাবে ঘর গোছাবেন

ছোট থেকে শুরু করুন – একবারে পুরো ঘর নয়, প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট দিয়ে ছোট একটা জায়গা পরিষ্কার করুন।

চার ভাগে ভাগ করুন – রাখব, দান করব, ফেলে দেব আর পরে ভাবব। এক বছরের বেশি ব্যবহার হয়নি এমন জামা নিশ্চিন্তে দান করুন।

প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন – টেবিল বা রান্নাঘরের কাউন্টার ফাঁকা রাখুন।

রক্ষণাবেক্ষণ করুন – প্রতিদিন ব্যবহারের পর জিনিস জায়গামতো রাখুন। নতুন কিছু কেনার আগে ভাবুন, এটা সত্যিই দরকার?

ডিজিটাল ক্লাটার কমান – ফোনের পুরোনো ছবি, অপ্রয়োজনীয় ভিডিও বা কম্পিউটারের ফাইল নিয়মিত মুছে ফেলুন।

গুছানোর সঙ্গে মানসিক যত্নঘর গুছানোর সময় আবেগও কাজ করে। অনেক পুরোনো জিনিস ছাড়তে মন চায় না। তবে মনে রাখা দরকার, আসল হলো স্মৃতি। এটক মনের ভেতরেই বেঁচে থাকে, জিনিসে নয়।

দিনের শেষে ঘর গোছানো মানে শুধু বাড়ি সুন্দর রাখা নয়। বরং নিজের মনেরও যত্ন নেওয়া। পরিপাটি ঘর, খালি জায়গা আর কম জিনিস আপনাকে দেবে শান্তি ও স্বস্তি। তাই দেরি না করে আজই শুরু করুন হয়তো আলমারির এক কোনা থেকেই।

Advertisements