বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

হতদরিদ্র সেই ফিরোজার চোখে এবার আনন্দাশ্রু

WhatsApp Image 2025-09-30 at 16.55.10_3c70ed50

সখীপুরের কচুয়া গ্রা‌মের পূর্পাড়া এলাকায় একটি জরাজীর্ণ মা‌টির ঘরে থাকতেন বিধবা নারী ফিরোজা বেগম (৭৩)। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকাই যেন তাঁর বোঝা। টিউবওয়েল-ল্যাট্রিন নেই, বয়স্ক ভাতাও পান না, নেই খাবারেরও নিশ্চয়তা।

‘কেউ আমা‌রে একটা ঘর বানাইয়া দিতো, সারাজীবন নামাজ পড়ে দোয়া করতাম’- একটি ঘরের জন্য এভাবেই আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর তা সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএ‌নও) মো. আবদুল্লাহ আল রনীর নজরে এসেছে।

সোমবার (২৯ সে‌প্টেম্বর) বিকেলে ওই বিধবার বা‌ড়িতে ঘর তৈ‌রির টিন, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ নিয়ে হা‌জির হন (ইউএ‌নও) মো. আবদুল্লাহ আল রনী। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.ওয়া‌মিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত  ছিলেন। 

ফিরোজা বেগমের ঘরটির নাজুক অবস্থা দেখে ঘর, ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপনের আশ্বাস দেন। আর এসব কা‌জের জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামকে সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করেন। এছাড়াও ওই বিধবাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মামুন শিকদার নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।

বা‌ড়ি‌তে ইউএনওসহ সবার উপ‌স্থিতি পেয়ে আনন্দাশ্রু ছিল বিধবা ফিরোজা বেগমের চোখে। তিনি বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া ভাঙা মা‌টির ঘর ছাড়া তার কোনো জমিজমা নেই। অ‌ন্যর টিউবওয়েলে পা‌নি আনতে এবং অন্যের ল্যাট্রিন ব্যবহারের জন্য গালমন্দ শুন‌তে হয়। তাই তি‌নি নতুন এক‌টি ঘরের আশা করছিলেন। যেখানে ল্যাট্রিন, টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎয়ের ব্যবস্থা থাকবে। অবশেষে সেই আশাই পূরণ হতে চলছে ফিরোজা বেগমের।

ইউএনও মো. আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদ‌রিদ্র-অসহায় মানুষের খবর পত্রিকাতে প্রকা‌শ করেছে; তা না হলে আমাদের নজরে আসতো না। গণমাধ্যম কর্মীদের এভাবেই মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি