শপিং ব্যাগে বাড়তি চার্জ নিয়ে আড়ংকে নোটিশ

ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং–এর বিরুদ্ধে কাগজের শপিং ব্যাগের জন্য আলাদা মূল্য আদায়ের বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে পাঠানো এই নোটিশে আড়ংয়ের করপোরেট অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মগবাজার শাখার স্টোর ম্যানেজারকে সম্বোধন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিশাত ফারজানা। তিনি নিজেকে আড়ংয়ের নিয়মিত ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে কাগজের শপিং ব্যাগের বিপরীতে অর্থ নেওয়া বন্ধ করতে হবে। তা না হলে উপযুক্ত আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন তিনি।
নিশাত ফারজানা বলেন, “এটি সরাসরি ভোক্তার অধিকার সংক্রান্ত বিষয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে ভোক্তা অধিকার আইনের আশ্রয় নেব।”
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আড়ংয়ের মগবাজার আউটলেটে কেনাকাটার সময় তিনি জানতে পারেন, এখন থেকে শপিং ব্যাগ ফ্রিতে দেওয়া হচ্ছে না, বরং টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এমনকি বিল কাউন্টারে প্রদর্শিত একটি লিফলেটে লেখা ছিল— “আপনার প্রিয় আড়ং ব্যাগ এখন আরও অর্থবহ”। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাগ বিক্রির অর্থ স্থানীয় গাছ লাগানোর প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু নোটিশদাতা এটিকে ভোক্তার কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় ও অসাধু ব্যবসায়িক মানসিকতার প্রকাশ হিসেবে আখ্যা দেন।
তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে হওয়া উচিত, গ্রাহকের কাঁধে চাপিয়ে নয়। নিম্নমানের কাগজের ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া মূলত অন্যায্য।
নোটিশে আরও বলা হয়, ব্যাগগুলোর মাপ এত ছোট যে একটির বেশি পণ্য রাখা যায় না। ফলে একাধিক জিনিস কিনলে গ্রাহককে বাড়তি ব্যাগ কিনতে হয়। এতে সাধারণ আয়ের ক্রেতারা বেশি চাপের মুখে পড়ছেন। ব্যাগ ব্যবস্থার আগে গ্রাহকদের মতামত নেওয়া হলে এই অসন্তোষ সৃষ্টি হতো না।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আড়ংয়ের বিভিন্ন শাখায় ক্রেতাদের অসন্তুষ্টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আড়ং দেশের একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলেও তাদের এই পদক্ষেপ ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা এবং স্বচ্ছতার অভাবের প্রমাণ। তিনি মনে করেন, ফ্রি ব্যাগ বন্ধ করে মূল্য নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দুঃখজনকভাবে একধরনের সস্তা মানসিকতা প্রদর্শন করেছে।



