বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

ঘরের মুড বদলাতে পর্দা বদলান

74597c7456270621cb8d3b8a474f4c58_1

ঘর সাজাতে আমরা কত কিছুই না করি। কেউ দেয়ালের রঙ পাল্টাই, কেউ নতুন লাইট লাগাই, আবার কেউ সোফার কাভার বদলে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি। কিন্তু জানেন কি? ঘরের পরিবেশ বদলাতে সবসময় এত ঝামেলা করতে হয় না। শুধু পর্দা বদলালেই ঘরের চেহারা একেবারে অন্যরকম হয়ে যেতে পারে।

পর্দা এখন আর শুধু সূর্যের আলো আটকানো বা প্রাইভেসি রক্ষার জন্য নয়। এটি ঘরের স্টাইল, মুড আর আপনার ব্যক্তিগত রুচির প্রতিফলন। সঠিক পর্দা ঘরের আলোকে নরম করে, রঙের ভারসাম্য আনে এবং ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এক কথায়, পর্দা ঠিক থাকলে ঘরের সাজসজ্জার অর্ধেক কাজ এমনিই হয়ে যায়।

কোন ঘরে কেমন পর্দাবেডরুমে শান্তির আবহ চাইলে হালকা রঙের পর্দা যেমন প্যাস্টেল ব্লু, অফ হোয়াইট বা হালকা সবুজ মানানসই। দেয়ালে যদি অনেক ডিজাইন বা শো-পিস থাকে, তাহলে সলিড রঙের পর্দা ভালো। বাচ্চাদের রুমে কার্টুন প্রিন্ট বা উজ্জ্বল রঙ সবসময়ই ফান লুক দেয়। আর দেশীয় আমেজ চাইলে ব্লক প্রিন্ট বা খাদির পর্দা একদম পারফেক্ট।ড্রয়িং ও ডাইনিং এ একটু স্টাইল করা যায়। ডাবল লেয়ার বা এমব্রয়ডার্ড পর্দা এই জায়গায় গর্জিয়াস লুক আনে। কুশন বা সোফার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দা বেছে নিলে ঘরটা আরও সাজানো-গোছানো লাগে। ড্রয়িং-ডাইনিং একসাথে হলে মাঝখানে পাতলা নেটের পর্দা টানিয়ে দিলে আলাদা অথচ আকর্ষণীয় লুক আসে।

ফ্যাব্রিক ও রঙ বাছাই

পর্দার ফ্যাব্রিক ঘরের স্টাইল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। হালকা লুক চাইলে সুতি, লিলেন বা ভয়েল ফ্যাব্রিক ভালো। আবার গ্ল্যামারাস পরিবেশ চাইলে সিল্ক বা ভেলভেট বেছে নিতে পারেন। ছোট ঘরের জন্য হালকা কাপড় ও হালকা রঙ উপযুক্ত। আর বড় ঘরে ডাবল লেয়ার বা বড় প্রিন্টের পর্দা দারুণ মানায়।

কাস্টমাইজড পর্দা

অনেকে এখন নিজের পছন্দমতো ডিজাইন করেই পর্দা বানান। দুই পাশে প্রিন্ট আর মাঝে সলিড রঙ, অম্ব্রে শেড, ম্যাক্রামে বা ব্লক প্রিন্ট সবকিছুই ঘরে আলাদা আমেজ আনে। কাপড় কিনে ডিজাইনারকে নিজের মতো করে বললে সহজেই একেবারে ইউনিক পর্দা তৈরি করা যায়।ঋতু ও ইভেন্ট অনুযায়ী পরিবর্তনগরমকালে হালকা রঙ ও পাতলা কাপড়ের পর্দা ঘরে শীতলতা আনে। শীতে ভারি ফ্যাব্রিক ও গাঢ় রঙ মানায় বেশি। আবার উৎসব বা অতিথি এলে একটু ঝলমলে রঙ কিংবা ভিন্ন টেক্সচারের পর্দা ব্যবহার করলে ঘরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

পর্দার যত্ন

পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। সাধারণত ছয় মাসে একবার ধুলে ভালো। তবে ধুলার অ্যালার্জি থাকলে মাসে একবার ধোয়া উচিত। সুতি বা সিনথেটিক পর্দা ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায়। তবে ভারি কাপড় যেমন ভেলভেট হলে প্রফেশনাল ক্লিনিং ভালো।

ঘর আমাদের শুধু থাকার জায়গা নয়। এটি আমাদের সবচেয়ে আরামদায়ক আশ্রয়। ঘরকে সুন্দর করে তুলতে সবসময় দামি ফার্নিচারের দরকার হয় না। একটি সুন্দর, রুচিশীল পর্দাই পারে ঘরে নতুন মুড এনে দিতে। তাই দেরি না করে আজই বেছে নিন নতুন পর্দা। আর ঘরকে সাজিয়ে তুলুন একেবারে নতুন রূপে।

Advertisements