শরতে ফিট থাকতে যোগব্যায়াম

ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় শরীরের যত্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আর বাংলাদেশের মত ষড়ঋতুর দেশে সব সময়ই আলাদা যত্ন চায় শরীর। শরতেও নিতে হয় বিশেষ যত্ন। কারণ শরৎ মানেই কখনো গরম, কখনো ভ্যাপসা, আবার কখনো হালকা ঠান্ডা হাওয়া। আবহাওয়ার এই অস্থিরতার কারণেই অনেকে জ্বর, সর্দি-কাশি বা শরীর ব্যথায় ভোগেন। এমন সময়ে শরীর ও মনকে ফিট রাখতে যোগব্যায়াম হতে পারে সহজ সমাধান। নিয়মিত কিছু সহজ আসন আর প্রাণায়াম আপনাকে শুধু রোগ প্রতিরোধেই সাহায্য করবে না, বরং মানসিক চাপও কমাবে।

শরীরচর্চা মানেই যে ঘাম ঝরাতে হবে তা নয়। যোগব্যায়াম আপনাকে আরাম দেবে, শরীর ঠান্ডা রাখবে এবং ফিট থাকতে সাহায্য করবে। যেমন শীতলী, সীৎকারী বা সদন্ত প্রাণায়াম শরীরকে শীতল করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভুজঙ্গাসন, সেতুবন্ধনাসন, তদাসন কিংবা উত্তনাসনের মতো সহজ আসনও প্রতিদিন করলে উপকার পাওয়া যায়।দিনে অন্তত ১৫ মিনিট যোগব্যায়ামের জন্য রাখুন। তবে যদি সত্যিই ফিট থাকতে চান, আসন, প্রাণায়াম আর মেডিটেশন মিলিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম এবং কয়েক মিনিট মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসে মনোযোগ দিলেই মিলবে প্রশান্তি।শরীর সুস্থ রাখতে মৌসুমি ফল আর শাকসবজির জুড়ি নেই। যেমন এই সময়ে পাওয়া যায় বাতাবিলেবু, আখ, আনারস, আমড়া। এগুলো নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তবে বাজারে সংরক্ষণ করা বা রাসায়নিক ব্যবহার করা ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।
পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর রান্না খেতে হবে।খাবারের প্লেটে অর্ধেক অংশ শাকসবজি আর বাকি অর্ধেক মাছ, মাংস, ভাত, রুটি, ডিম বা দুধ রাখুন। ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে, ফলে মেদও জমবে না। দুপুরে টক দই খাওয়া যেতে পারে, আর রাতের খাবার হালকা রাখাই ভালো। চাইলে বাড়িতে তৈরি স্যুপ খেতে পারেন।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন। তারপর অন্তত ১৫ মিনিট যোগব্যায়াম করুন। এরপর হালকা নাশতা দিয়ে দিন শুরু করলে শরীর থাকবে হালকা, মনও থাকবে প্রফুল্ল।নিয়মিত যোগব্যায়াম আর সঠিক খাবারাভ্যাসই পারে আপনাকে রাখবে সুস্থ, সতেজ আর ফিট। তাই নিজের শরীরকে ফিট রাখতে শরতেও নিয়ম মেনে চলুন।



