বেশি প্রোটিন পেতে ডিম নাকি পনির, কোনটি বেছে নেবেন?

ডিম ও পনির—দুটিই পুষ্টিকর এবং সহজে খাবারের তালিকায় যোগ করা যায়। তবে প্রোটিন, ক্যালোরি ও ফ্যাটের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে দুটির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই নিজের খাদ্যাভ্যাস ও ফিটনেস লক্ষ্য অনুযায়ী কোনটি বেশি উপযোগী, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ICMR-NIN ইন্ডিয়ান ফুড কম্পোজিশন টেবিলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম ডিমে প্রায় ১৩.৩ গ্রাম প্রোটিন এবং ১৪৭ কিলোক্যালরি থাকে। অন্যদিকে, একই পরিমাণ পনিরে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ১৮.৯ গ্রাম এবং ক্যালোরি ২৫৮ কিলোক্যালরি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ গ্রামে পনিরে প্রোটিন বেশি পাওয়া যায়।
তবে শুধু প্রোটিনের পরিমাণ দেখলেই হবে না। ক্যালোরি ও ফ্যাটের দিক থেকেও দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ১০০ গ্রাম ডিমে প্রায় ১০ গ্রাম ফ্যাট থাকলেও একই পরিমাণ পনিরে ফ্যাট থাকে প্রায় ১৪.৮ গ্রাম। ফলে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে চাইলে ডিম তুলনামূলক সুবিধাজনক হতে পারে।
নিরামিষভোজীদের জন্য পনির অবশ্য সহজ ও জনপ্রিয় প্রোটিনের উৎস। এতে দুধ থেকে পাওয়া ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। তবে পনির কীভাবে তৈরি ও রান্না করা হচ্ছে, তার ওপরও এর মোট পুষ্টিমান নির্ভর করে। বিশেষ করে ফুল-ফ্যাট পনির এবং অতিরিক্ত তেল বা মাখন দিয়ে রান্না করা পদে ক্যালোরির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
পেট ভরা রাখার ক্ষেত্রেও ডিম ও পনিরের মধ্যে বড় কোনো নিশ্চিত পার্থক্য পাওয়া যায়নি। ‘অ্যাপেটাইট’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্রোটিন ও শক্তির দিক থেকে কাছাকাছি পরিমাণ ডিম ও কটেজ চিজের তুলনা করা হয়। এতে দেখা যায়, খাবার দুটি ভিন্নভাবে হজম হলেও অংশগ্রহণকারীদের পেট ভরা থাকার অনুভূতি ছিল প্রায় একই রকম।
অন্যদিকে, ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতায় ভোগা অংশগ্রহণকারীরা সমপরিমাণ ক্যালোরির বেগল-ভিত্তিক সকালের নাশতার তুলনায় ডিম-ভিত্তিক নাশতা খাওয়ার পর দুপুরের খাবারে বেশি তৃপ্তি অনুভব করেন এবং কম ক্যালোরি গ্রহণ করেন।
সব মিলিয়ে, শুধু প্রোটিনের পরিমাণ বিবেচনা করলে পনির এগিয়ে। তবে কম ক্যালোরিতে প্রোটিন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলে ডিম হতে পারে আরও বাস্তবসম্মত পছন্দ। ডিম দ্রুত তৈরি করা যায় এবং এতে প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজও রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত ডিম নাকি পনির—কোনটি বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে আপনার খাদ্যাভ্যাস, খাবারের পরিমাণ ও ফিটনেস লক্ষ্যের ওপর। সুষম খাদ্যতালিকায় দুটিরই জায়গা থাকতে পারে।



